অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, “ষড়যন্ত্রকারীরা থেমে নেই। আমাদেরকে ব্যর্থ করার এই ষড়যন্ত্রে যে বা যারাই জড়িত থাকবে, তাদেরকে বিন্দু পরিমাণ ছাড় দেওয়া হবে না।”
বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ের সাত নম্বর ভবনে অগ্নিকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
সচিবালয়ে অগ্নিকাণ্ডের পর উত্তরবঙ্গ সফরের কর্মসূচি স্থগিত করে বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকায় ফিরে আসেন তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, “স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে বিগত সময়ে অর্থ লোপাট, দুর্নীতি নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছিলাম। কয়েক হাজার কোটি টাকা লুটপাটের প্রমাণও পাওয়া গিয়েছিল।”
আগুনে কী পরিমাণ ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি। ক্ষয়-ক্ষতি নিরূপণ ও অগ্নিকাণ্ডের কারণ উদঘাটনের জন্য মন্ত্রণালয়ভিত্তিক তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা।
বিপ্লবী হবার আহ্বান সারজিসের
প্রায় ১০ ঘণ্টা চেষ্টার পর নিভেছে সচিবালয়ে লাগা আগুন। তবে পুড়ে গেছে সচিবালয়ের ৭ নম্বর ভবনে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়; ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়; শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়; অর্থ মন্ত্রণালয়; সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিভাগ রয়েছে।
এমন ঘটনার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে সারজিস আলম চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, ‘বিগত ১৬ বছরে আওয়ামী লীগের যারা চাটার দল ছিল, তাদের মধ্যে অন্যতম স্টেকহোল্ডার ছিল আমলাদের বৃহৎ একটা অংশ। এদের ওপর ভর দিয়েই হাসিনা এই দেশে তার ক্ষমতা কুক্ষিগত করেছিল।
যখনই বিপ্লবীরা হাসিনার অপকর্ম, চুরি, লুটপাট, দুর্নীতির দিকে নজর দিয়েছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে, তখনই সচিবালয়ে ঘাপটি মেরে থাকা হাসিনার দালালেরা বিভিন্ন অপকর্মের ফাইলগুলোকে আগুনে পুড়িয়ে দিল।
রাষ্ট্র সংস্কার করতে হলে সবার আগে আমলাতন্ত্র ও প্রশাসনে যেসব চাটার দল এখনও ঘাপটি মেরে লুকিয়ে আছে, তাদের শেকড় থেকে উপড়ে ফেলতে হবে। সাবধান করার সময় আর নাই’।
সারজিস উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলমকে মেনশন করে বলেন, ‘বিপ্লবী ভূমিকায় অবতীর্ণ হোন। পুরো বাংলাদেশে আপনাদের সাথে আছে’।
আপনার মন্তব্য লিখুন