<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:media="http://search.yahoo.com/mrss/"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>বিডিআর বিদ্রোহ &#8211; Bengali Online News Portal in Bangladesh</title>
	<atom:link href="https://worldbarta.com/news/tag/bangladesh-rifles-revolt/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://worldbarta.com</link>
	<description>বিশ্ববার্তা । World Barta</description>
	<lastBuildDate>Thu, 04 Dec 2025 05:41:34 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=7.0.2</generator>

<image>
	<url>https://worldbarta.com/wp-content/uploads/2025/10/cropped-WB_Logo-32x32.png</url>
	<title>বিডিআর বিদ্রোহ &#8211; Bengali Online News Portal in Bangladesh</title>
	<link>https://worldbarta.com</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>বিডিআর বিদ্রোহ : ভারত, হাসিনা, সেলিম, তাজ, তাপস ও কর্ণেল শামস ছিল মূল কালপ্রিট</title>
		<link>https://worldbarta.com/news/585693/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[বিশ্ববার্তা ডেস্ক]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 04 Dec 2025 05:41:34 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[বাংলাদেশ]]></category>
		<category><![CDATA[আওয়ামী লীগ]]></category>
		<category><![CDATA[বিজিবি]]></category>
		<category><![CDATA[বিডিআর বিদ্রোহ]]></category>
		<category><![CDATA[ভারত]]></category>
		<category><![CDATA[শেখ হাসিনা]]></category>
		<category><![CDATA[সেনাবাহিনী]]></category>
		<category><![CDATA[হত্যা]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://worldbarta.com/?p=585693</guid>

					<description><![CDATA[পিলখানায় বিডিআর সদর দপ্তরে সেনা হত্যাযজ্ঞের তদন্ত কমিশনের রিপোর্টে ঘুরেফিরে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাতিজা ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের নামই বেশি এসেছে। উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন এই স্বাধীন তদন্ত কমিশন তাপসের সংশ্লিষ্টতার আদ্যোপান্ত খুঁজে বের করেছে। তদন্তের আগে গণমাধ্যমের রিপোর্টেও তাপস ছিলেন আলোচিত। কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের আগে ভারতীয় পক্ষের সঙ্গে বৈঠকের পর পুরো পরিকল্পনা [&#8230;]]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p style="text-align: justify;">পিলখানায় বিডিআর সদর দপ্তরে সেনা হত্যাযজ্ঞের তদন্ত কমিশনের রিপোর্টে ঘুরেফিরে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাতিজা ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের নামই বেশি এসেছে। উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন এই স্বাধীন তদন্ত কমিশন তাপসের সংশ্লিষ্টতার আদ্যোপান্ত খুঁজে বের করেছে। তদন্তের আগে গণমাধ্যমের রিপোর্টেও তাপস ছিলেন আলোচিত।</p>
<p style="text-align: justify;">কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের আগে ভারতীয় পক্ষের সঙ্গে বৈঠকের পর পুরো পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয় এবং সমন্বয়ের জন্য তাপসের অফিস ও বাসায় একাধিক বৈঠক হয়। তাপসের অফিসে এ রকম এক বৈঠকে বসেই ভারতীয় গোয়েন্দাদের নিয়ে পিলখানা হত্যাযজ্ঞের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়। ভারতীয় কমান্ডো ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার ২৪ জন পিলখানা হত্যাকাণ্ডে সরাসরি যুক্ত ছিলেন বলে সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত কমিশন তাদের রিপোর্টে উল্লেখ করেছে।</p>
<p style="text-align: justify;">ভারতে পলাতক শেখ হাসিনা ব্যারিস্টার তাপসের ফুপু। শেখ পরিবারের আরেকজন প্রভাবশালী সদস্য বর্তমানে পলাতক শেখ সেলিমও এই পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন বলে তদন্ত কমিশন সাক্ষ্যপ্রমাণে নিশ্চিত হয়েছে। তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজও এই পরিকল্পনার কথা জানতেন।</p>
<p style="text-align: justify;">২০০৮ সালের ডিসেম্বরে ভারতের সহায়তায় ওয়ান-ইলেভেনের সরকারের পাতানো নির্বাচনে হাসিনা ক্ষমতায় বসেন। এরপর পরিকল্পিত উপায়ে মাত্র দুই মাসের মধ্যে দেশপ্রেমিক সেনা অফিসারদের পর্যায়ক্রমে বিডিআরে পদায়ন করা হয়। এর আগে রৌমারী, বড়াইবাড়ী ও পদুয়া সীমান্তে বিডিআরের হাতে ভারতীয় বিএসএফ সদস্যদের হত্যার প্রতিশোধ, সেনা মনোবল ভেঙে দিয়ে বাংলাদেশের ওপর আধিপত্য বিস্তারের বাসনা নিয়ে সুপরিকল্পিত এই হত্যাকাণ্ড চালানো হয় বলে কমিশন মনে করে।</p>
<p style="text-align: justify;">কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, পদুয়া ও রৌমারীর যুদ্ধ বিডিআরের ইতিহাসে শৌর্য, বীর্য ও বীরত্ব প্রদর্শনের অবিস্মরণীয় একটি ঘটনা। ওই খণ্ডযুদ্ধে বিএসএফের যে শোচনীয় ও লজ্জাজনক পরাজয় ঘটে, ভারত কখনোই তা মেনে নিতে পারেনি।</p>
<p style="text-align: justify;">পিলখানায় সংঘটিত বর্বর হত্যাকাণ্ড তদন্তের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন প্রায় ১১ মাস তদন্ত শেষে গত রোববার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন হস্তান্তর করে। এই কমিশনের প্রধান হলেন মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমান। ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওই ঘটনায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিহত হন।</p>
<p style="text-align: justify;">তদন্ত কমিশনের ৩৬০ পৃষ্ঠার মূল প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যারিস্টার তাপসের বাসায় আওয়ামী লীগ নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিমের উপস্থিতিতে বিডিআর সদস্যদের একাধিক বৈঠক হয়। একটি বৈঠকে অফিসারদের জিম্মি করার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়, পরে তা পরিবর্তন করে হত্যার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।</p>
<p style="text-align: justify;">কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই শেখ সেলিমের উপস্থিতিতে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার ২৪ জনের একটি দল বৈঠকে অংশ নেয়। সেখানে সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং তাপসকে হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টদের নিরাপদে পালিয়ে যেতে সহায়তার দায়িত্ব দেওয়া হয়।</p>
<p style="text-align: justify;">পরিকল্পনা বাস্তবায়নে একাধিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক, মির্জা আজম, লেদার লিটন ও তোরাব আলী। এসব পরিকল্পনা সম্পর্কে ৪৪ রাইফেলস ব্যাটালিয়নের সিও কর্নেল শামস অবগত ছিলেন এবং তাপস তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে সিদ্ধান্তের অনুমোদন নেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন।</p>
<p style="text-align: justify;">সাধারণ বিডিআর সদস্যদের ডাল-ভাত কর্মসূচি নিয়ে ক্ষোভকে উসকে দিয়ে বিডিআর বিদ্রোহ সৃষ্টি করার মাধ্যমে মূল পরিকল্পনা দেশপ্রেমিক সেনা অফিসারদের হত্যার মিশন বাস্তবায়ন করা হয়। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিডিআরের কিছু সদস্যের সঙ্গে শেখ তাপস, শেখ সেলিমসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেন। বাসা, অফিস, মসজিদেও এ রকম কিছু বৈঠক হয় বলে সাক্ষ্যপ্রমাণে বেরিয়ে এসেছে। বাস্তবায়ন ও হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্যে বিডিআর সদস্যদের মধ্যে বিপুল অর্থ বিতরণ করা হয়েছিল।</p>
<p style="text-align: justify;">তদন্তে উঠে আসে, সংসদ সদস্য গোলাম রেজা ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে পিলখানা এলাকায় আলাউদ্দিন নাসিম, সাবেক এমপি মোর্শেদ, শেখ সেলিম ও ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার কয়েকজন কর্মকর্তাকে দেখেছেন।</p>
<p style="text-align: justify;">প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে সূত্র বলেছে, বিদ্রোহ শুরুর পর ক্যাপ্টেন তানভীর হায়দার নূর স্ত্রীকে পিলখানায় ভারতীয় এনএসজি (ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড) সদস্যদের উপস্থিতির কথা জানান। তার স্ত্রী তাসনুভা মাহা জানান, তিনি বিডিআরের পোশাক পরা তিনজনকে হিন্দিতে গালাগাল করতে শোনেন। সেদিন পিলখানায় হিন্দি, পশ্চিমবঙ্গীয় টানে বাংলা এবং অচেনা ভাষায় কথোপকথন শোনার কথা একাধিক সাক্ষী জানিয়েছেন।</p>
<p style="text-align: justify;">কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৯ সালের ২৪ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৮২৭ জন ভারতীয় পাসপোর্টধারী এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিদেশি নাগরিক বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। তাদের মধ্যে ৬৫ জনের বহির্গমনের তথ্য পাওয়া যায়নি। একই সময়ে ১ হাজার ২২১ জনের বহির্গমনের তথ্য থাকলেও ৫৭ জনের আগমনের কোনো রেকর্ড ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে নেই। বিষয়টি আরো তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে বলে কমিশন প্রতিবেদনে সুপারিশ করেছে। বিদেশি ভাষা শোনা, বহিরাগতদের পলায়ন, কল তালিকায় বিদেশি নম্বর, ক্যাপ্টেন তানভীরের শেষ কথোপকথনসহ বিভিন্ন তথ্যকে কমিশন প্রতিবেদনে ভারতের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।</p>
<p style="text-align: justify;">কমিশনের প্রতিবেদনের ৭২ নম্বর অনুচ্ছেদের বিদেশি সংশ্লিষ্টতা বিষয়ে ভারতের সংশ্লিষ্টতা এবং এর সঙ্গে আওয়ামী লীগের কারা-কীভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন, তার বিস্তারিত উঠে আসে।</p>
<p style="text-align: justify;">ক. ২০০৮ সালের জুন মাসে, আনুমানিক ১ থেকে ৬ বা ৮ তারিখের মধ্যে, মেজর নাসির নামের একজন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক অফিসার বরিশালে ডিজিএফআইয়ের লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুস সালামের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেন এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুস সালামের সঙ্গে দেখা করে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদানের আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং এরই ধারাবাহিকতায় মেজর নাসির লে. কর্নেল সালামের সঙ্গে দেখা করেন এবং দুটি বই উপহার দিয়ে নিম্নলিখিত তথ্য দিয়েছিলেন—</p>
<p style="text-align: justify;">“মেজর নাসির জানান, তিনি সম্প্রতি বিদেশ থেকে ফিরেছেন। একই এয়ারক্রাফটে তিনি আওয়ামী লীগের কিছু শীর্ষ নেতাকে দেখেছেন, যারা ভারতের বারাসাতে ‘র’-এর সঙ্গে বৈঠক করে ফিরছিলেন। সেখানে আবুল হাসনাত আবদুল্লাহসহ কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, তারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে একটি বড় ষড়যন্ত্র পরিকল্পনা করেছে। তাদের বক্তব্য ছিল, আগামী ১২ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে সেনাবাহিনী যেন নৈতিকভাবে দাঁড়াতে না পারে, সেভাবে আঘাত হানার পরিকল্পনা তারা করছে।” লে. কর্নেল সালাম সঙ্গে সঙ্গে ডিজিএফআইয়ের ডিরেক্টর সিআইবি ব্রিগেডিয়ার বারীকে বিষয়টি অবহিত করেছিলেন; কিন্তু তিনি বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে উল্টো লে. কর্নেল সালামকে তিরস্কার করেছিলেন। (সূত্র : সাক্ষী নম্বর : ৫৭)</p>
<p style="text-align: justify;">খ. ২০০৮ সালের জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি মেজর (অব.) নাসির উদ্দিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরে তিনি কলকাতা যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং ইন্ডিয়ান হাইকমিশনে টুরিস্ট ভিসার জন্য আবেদন করেন। প্রথমবার সেখানে গেলে মেজর নাসিরকে তার ভিসার জন্য ডিফেন্স উইংয়ে যোগাযোগ করতে বলা হয়। পরের দিন মেজর নাসির হাইকমিশনে আবার যান, রিসিপশনে ১৫-২০ মিনিট অপেক্ষা করেন। তারপর তাকে বলা হয়, আগে নিরাজ শ্রীবাস্তবের সঙ্গে দেখা করতে হবে। প্রথম সাক্ষাৎটি ছিল বন্ধুত্বপূর্ণ। দিল্লি থেকে আসা তরুণ কর্মকর্তা মেজর নাসিরকে বিস্কুট ও কফি অফার করেন, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অর্ধঘণ্টা আলোচনা করেন এবং মেজর নাসিরকে পরের দিন আসতে বলেন। দ্বিতীয় দিন তিনি কিছুটা গম্ভীর হয়ে বলেন, বাংলাদেশের মানুষ আবেগপ্রবণ এবং পাকিস্তানের দর্শন অনুসরণ করে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের আর্মি, নেভি ও এয়ার ফোর্সের ডকট্রিন পাকিস্তানের সঙ্গে একই। এরপর তিনি মেজর নাসিরকে পদুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। মেজর নাসির বলেন, তিনি আমেরিকায় অবস্থান করার কারণে কিছু জানেন না। নিরাজ শ্রীবাস্তব বলেন, Padua-তে বিডিআর ১৬-১৭ জন বিএসএফ সদস্যকে হত্যা করেছে। এটি ছিল একটি গুরুতর উসকানিমূলক ঘটনা। তিনি বলেন, ‘Padua will not go unchallenged and unpunished.’ ২০০৮ সালে আরেকবার এক উচ্চপদস্থ ভারতীয় কূটনীতিকের সঙ্গে মেজর নাসিরের দেখা হয়। তিনি মাসটি স্মরণ করতে পারেননি, তবে ঘটনাগুলো সবই ২০০৮ সালের মধ্যে হয়েছিল। (সূত্র : সাক্ষী নম্বর : ৯৫) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জানা যায়, Mr. Niraj Srivastava ২০০৬ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনে Minister পদবিতে নিয়োজিত ছিলেন। (সূত্র : পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পত্র নম্বর : ১৯.০০.০০০০.৭৩০.২৮.৩৭.২৫-২৩১৯, তারিখ ২২ অক্টোবর ২০২৫, সংযোজনী : ৫৩)</p>
<p style="text-align: justify;">গ. ঘটনা-পূর্ব ষড়যন্ত্রে তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ এবং শেখ সেলিমের উপস্থিতিতে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর ২৪ জনের একটি কিলার গ্রুপের সঙ্গে বৈঠক হয়। নায়েক শহীদুর রহমান তার ঘনিষ্ঠ তোরাব আলীর (অন্যতম মূল ষড়যন্ত্রকারী, পরে জেলখানায় মৃত) বরাতে বলেন, ‘ভারতীয়দের সঙ্গে বৈঠকের পরে পুরো পরিকল্পনা সাজানো হয় এবং সমন্বয় করার জন্য শেখ ফজলে নূর তাপসের বাসায় বৈঠক হয়। সেখানে উপস্থিত ছিল নানক, মির্জা আজম, ফজলে নূর তাপস, শেখ সেলিম, লেদার লিটন এবং তোরাব আলী। সেখানে যখন জানানো হয় যে অফিসারদের হত্যা করা হবে, তখন তোরাব আলী সেখানে আপত্তি করেন। তিনি বলেন, অফিসারদের হত্যা করা যাবে না। তখন শেখ সেলিম তাকে মুরব্বি সম্বোধন করে বলেন, ‘আপনার তো বয়স হয়েছে। আপনার আর এর মধ্যে থাকার দরকার নেই। আপনার ছেলে (লেদার লিটন) আমাদের সঙ্গে থাকলেই হবে।’ (সূত্র : কয়েদি সাক্ষী নম্বর : ৩০)</p>
<p style="text-align: justify;">ঘ. ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ সকাল পৌনে ১০টা থেকে ১০টায় পিলখানা এলাকায় সাবেক এমপি মোর্শেদ, শেখ সেলিম কিছু ‘র’-এর সদস্যের উপস্থিতি দেখা যায়। এই ‘র’-এর সদস্যরা সাক্ষী এমপি গোলাম রেজার রাজনৈতিক যোগাযোগের কারণে তার পূর্বপরিচিত ছিলেন। সাবেক এমপি গোলাম রেজা তার সাক্ষ্যে বলেন, ‘এরপর আমি দ্রুত নর্দান মেডিকেল কলেজের দিকে যাই। সেখানে আলাউদ্দিন নাসিম, সাবেক এমপি মোর্শেদ, শেখ সেলিম এবং ‘র’-এর চার-পাঁচজনকে দেখলাম, যাদের আমি আগে থেকেই চিনতাম।’ (সূত্র : রাজনৈতিক সাক্ষী নম্বর : ০১)</p>
<p style="text-align: justify;">ঙ. ক্যাপ্টেন তানভীর হায়দার নূরের স্ত্রী তাসনুভা মাহা ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ বিদ্রোহ শুরু হওয়ার পর ক্যাপ্টেন তানভীরের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলার সময় ক্যাপ্টেন তানভীর তাকে পিলখানার ভেতরে ভারতীয় সংস্থা National Security Guard (NSG) of India-এর নাম বলেন। বেগম তাসনুভার ভাষ্য অনুযায়ী, ‘২৫ তারিখ তানভীরের সঙ্গে যখন আমার শেষ কথা হচ্ছে, তখন আমি ছিলাম খাটের নিচে। বাচ্চাদের নিয়ে তখন আমি লুকিয়ে ছিলাম, সেখান থেকে আমি আবার ওয়ারড্রবের মধ্যে লুকাই, কারণ বুঝতে পারছিলাম পাশেই কোথাও বিডিআর সদস্যরা ঘোরাফেরা করছেন। তানভীরের সঙ্গে শেষ ফোনালাপে তানভীর আমাকে বলেন, লীগের নেতারা অন্য পোশাকে এসেছেন। ওর মুখে আমি এনএসজি নিয়ে কিছু কথা শুনেছি। কিন্তু আমি বুঝতে পারছিলাম না যে এনএসজি কী ও আমাকে বোঝানোর চেষ্টা করছিলেন। আমি দুবার তাকে জিজ্ঞেস করেছি, এনএসজি কী? তখন একপর্যায়ে তিনি বেশ বিরক্ত হয়ে বলেন, Indians! Indians’.</p>
<p style="text-align: justify;">এছাড়া বেগম তাসনুভা মাহা বলেন, তিনি চুল বড় তিনজনকে বিডিআরের টি-শার্ট ও স্যান্ডেল পরা অবস্থায় দেখেছেন, যারা তাকে হিন্দিতে গালাগাল করেছে এবং তার সন্তানদের ‘পাকিস্তানি লাডলা’ বলেছে। (সূত্র : শহীদ পরিবার সাক্ষী নম্বর : ১২)</p>
<p style="text-align: justify;">চ. ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ পিলখানার ভেতরে বিভিন্ন সময় হিন্দিতে, পশ্চিমবঙ্গের উচ্চারণে বাংলা ভাষায়, বাংলা নয় এমন ভাষা এবং ইংরেজিতে কথা বলতে শোনা গেছে। নায়েক শহীদুর, সিপাহি সেলিম, পিলখানা কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম মরহুম সিদ্দিকুর রহমান, সিপাহি শাহাদাত, সাক্ষী তাসনুভা মাহা (শহীদ ক্যাপ্টেন তানভীরের স্ত্রী) সিপাহি আব্দুল মতিন স্বচক্ষে হিন্দি ভাষী এবং বাংলা নয় এমন ভাষাভাষী বহিরাগত ব্যক্তিদের বিডিআরের ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় ২৫ তারিখ হত্যাকাণ্ড চলাকালীন সময়ে এবং তার অব্যবহিত পরে পিলখানার অভ্যন্তরে দেখেছেন—</p>
<p style="text-align: justify;">১. নায়েক শহীদুরের ভাষ্যমতে, “তখন সকাল প্রায় ১০.১৫ থেকে ১০.৩০-এর মতো বাজে। দেখি তিন নম্বর গেটের দিকে ৫-৬ জন ব্যক্তি বিডিআর সৈনিকের পোশাক পরা লোক দাঁড়িয়ে আছে। আমাকে দেখে বলল—‘ইধার আও’। তাদের বলার ভাষাটা ছিল কমান্ড ভয়েসের মতো। আমি হতচকিত হয়ে যাই। আমি তাদের গালি দিয়ে বলি, ‘একটা গন্ডগোল হইসে, আর তোরা ভাষাও বদলায় ফেলসিস। আমার র‍্যাংক চোখে পড়ে না তোদের!’ তখন তারা নিজেরা কিছু কথা বলাবলি করছিল এবং সেগুলো হিন্দি ভাষাতেই বলাবলি করছিল। এদের মধ্যে অন্তত একজন বাঙালি ছিল। আমি বলতে শুনি, একজন আমাকে দেখিয়ে বলল, ‘হি ইজ এ ভেরি ক্লেভার ম্যান।” (সূত্র : কয়েদি সাক্ষী নম্বর : ৩০)</p>
<p style="text-align: justify;">২. সিপাহি সেলিম বলেন, ‘আমি গুলি করলেও সেগুলো তাদের গায়ে লাগেনি। এরপর আমি গড়িয়ে গড়িয়ে পাশের দরজা দিয়ে বেরিয়ে রাস্তায় যাই এবং সেখানে সেই অস্ত্রধারীদের দেখতে পাই। সেখানে দেখি যে তাদের মুখ বাঁধা থাকলেও তাদের চুল সিভিলিয়ানদের মতো লম্বা, বিডিআর কাটিং না এবং তারা হিন্দিতে কথা বলছে। সেখানে প্রায় এ রকম ৮-১০ জন অস্ত্রধারী ব্যক্তি ছিল।’ (সূত্র : কয়েদি সাক্ষী নম্বর : ২০)</p>
<p style="text-align: justify;">৩. হেফাজতে মৃত্যুবরণকারী পিলখানা মসজিদের ইমাম সিদ্দিকুর রহমানের স্ত্রী কামরুন নাহার শিরিন তার স্বামীর বরাতে বলেন, ‘আমাকে আমার স্বামী বলেছেন, এ রকম সময় উত্তরদিক থেকে একটি গাড়ি (পিকআপ) এসে দরবারের পশ্চিম গেটে দাঁড়িয়েছে। ওই গাড়ি থেকে প্রচুর সৈনিক অস্ত্রসহ নামে। এই সৈনিকদের হিন্দিতে এবং ইংলিশে কথা বলতে আমার স্বামী শুনেছেন। তারা অন্য সৈনিকদের গুলি করার জন্য কমান্ড করছিল। হিন্দি এবং ইংলিশে ওই সৈনিকরা কী কী বলেছে, সেটাও তিনি আমাকে বলেছিলেন কিন্তু এখন আমার মনে নেই।’ (সূত্র : বিডিআর সাক্ষী নম্বর : ০৩)</p>
<p style="text-align: justify;">৪. সিপাহি শাহাদাতের দেওয়া তথ্যমতে, ‘২৫ তারিখ সকাল আনুমানিক ১০.৩০ থেকে ১১.৩০-এর মধ্যে আমি তিনজন ব্যক্তিকে ওই পথ ধরে দেয়াল টপকে পিলখানার বাইরে চলে যেতে দেখি। এদের পরনে বিডিআরের পোশাক পরিহিত থাকলেও, পায়ে বুট জুতা ছিল না। প্যারেড এবং বিডিআর সপ্তাহ উপলক্ষে আমাদের সবার চুল জিরো সাইজ করা থাকলেও এদের চুল সিভিলিয়ানদের মতো ছিল। তবে এদের মুখ বাঁধা ছিল। যেটি আমার আরো দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তা হলো, তারা এমন একটি ভাষায় কথা বলছিল, যেটি মাঝে মাঝে আমার হিন্দি মনে হয়েছে, আবার মনে হয়েছে ঠিক হিন্দিও না। সেটি যে বাংলা ভাষা না, আমি নিশ্চিত। হিন্দি ভাষা আমি বলতে না পারলেও বুঝতে পারি। তারা একটি অদ্ভুত ভাষায় কথা বলতে বলতে চলে গেল। মনে হচ্ছিল হিন্দি আবার হিন্দিও না, এমন ভাষাতেও তারা কথা বলেছে।’ (সূত্র : কয়েদি সাক্ষী নম্বর : ২১)</p>
<p style="text-align: justify;">৫. সিপাহি আব্দুল মতিন বলেন, “মিছিলটি ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান করে এবং আনুমানিক ১০০ থেকে ১৫০ জনের মতো লোকসংখ্যা ছিল। মিছিলের সঙ্গে মিশে দুজন ব্যক্তি উচ্চ স্বরে ‘জয় হিন্দ’ বলছিলেন। ওই দুজনের গায়ে বিডিআর পোশাক ছিল এবং তাদের হাতে এসএমজি অস্ত্র লক্ষ করলাম। তাদের পোশাক কেমোফ্লেজ গেজি ছিল এবং তাদের চেহারা ও ভাষা থেকে আমি বুঝলাম তারা স্থানীয় নয়, কারণ তারা হিন্দি ভাষায় কথা বলছিল।’ (সূত্র : কয়েদি সাক্ষী নম্বর : ২৪)</p>
<p style="text-align: justify;">ছ. লে. কর্নেল তাসনিম, মেজর মুনির, সিপাহি আইয়ুব হিন্দি ভাষা, পশ্চিমবঙ্গের টানে বাংলা ভাষা এবং বাংলা বা হিন্দি নয় অপরিচিত ভাষার কথোপকথন শুনেছেন—</p>
<p style="text-align: justify;">১. লে. কর্নেল তাসনিম বলেন, “পরে রাত সাড়ে ৭টায় একটি পিকআপে দন্ডায়মান দুজন লোক সিগন্যাল সেক্টর অফিসের সামনে মেগাফোনে সৈনিকদের উদ্বুদ্ধ করতে লাগল। তাদের চুল কাঁধ পর্যন্ত লম্বা, ভাষা পশ্চিমবঙ্গের মতো। তারা বলছিল, ‘আর্মির বিরুদ্ধে লড়বো, ঐক্যবদ্ধ থাকো’। উল্লেখ্য, বিডিআর সপ্তাহ উপলক্ষে শতভাগ বিডিআর সদস্যের চুল কাটা নিশ্চিত করা হয়েছিল।” (সূত্র : সাক্ষী নম্বর : ৫৪)</p>
<p style="text-align: justify;">২. মেজর সৈয়দ মনিরুল আলম বলেন, ‘রাতে দরবার হলের ফলস সিলিংয়ে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় আমি নিজ কানে এমন ভাষা শুনেছি, যা বাংলা, হিন্দি বা চায়নিজ ছিল না, সম্ভবত চাকমা, তবে আমি নিশ্চিত না। এটা সাব-কন্টিনেন্টেরও কোনো ভাষা হতে পারে।’ (সূত্র : সাক্ষী নম্বর : ৯২)</p>
<p style="text-align: justify;">৩. সিপাহি আইয়ুব বলেন, ‘আমি স্মল আর্মস কোয়ালিফাইড, অস্ত্রশস্ত্র সম্পর্কে আমার খুব ভালো ধারণা ছিল। তাই তৎক্ষণাৎ আমি ওদের অস্ত্র দেখেই বুঝতে পেরেছি যে এখানে বহিরাগত লোকজনও আছে। প্রচণ্ড গোলাগুলি করতে করতে দরবার হল ঘিরে ফেলেছিল। আমি দূর থেকে তাদের কিছু কথাও শুনেছিলাম। সেগুলো বাংলা ছিল কিন্তু আমার মনে হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের দিকের বাংলা টানে তারা কথা বলছিল।’ (সূত্র : কয়েদি সাক্ষী নম্বর : ১৭)</p>
<p style="text-align: justify;">জ. ক্যাপ্টেন শাহনাজ ২৭ ফেব্রুয়ারি সকালে ১৮ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে Search and Rescue Operation-এ অংশগ্রহণ করতে গিয়ে পিলখানা দরবার হলের কাঠে একটি ব্যবহার করা সাবমেশিন গানে (এসএমজি) নজলের সঙ্গে গেরিলা বাহিনীর স্টাইলে বাঁধা একটি বিদেশি স্লিং দেখেন। স্লিংটি ছিল সেনাবাহিনীর মতো জলপাই রঙের এবং তার ওপর Dark Olive রঙের বড় ইংরেজি হরফে ‘TIGER’ লেখা। তার জানা মতে, এ ধরনের স্লিং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অথবা বিডিআর ব্যবহার করে না। গঠন, স্লিংয়ের পুরুত্ব এবং স্লিংটি বাঁধার কৌশল দেখে তার কাছে মনে হয়েছিল এটি অন্য কোনো বিদেশি উৎসের হতে পারে। (সূত্র : সাক্ষী নম্বর : ১০১)</p>
<p style="text-align: justify;">ঝ. ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ তারিখে গোলাম রেজা (প্রাক্তন এমপি) পিলখানার ভেতরে ও বাইরে কিছু লোককে দৌড়াদৌড়ি করতে দেখেন কিছু মানুষ ছোট ছোট টিনের ঘরে লাইফ জ্যাকেটগুলো খুলে রেখে পালিয়ে যাচ্ছিল। তাদের দেখে এমপি গোলাম রেজার মনে হয়েছিল, তারা দেশের কেউ নয়। (সূত্র : রাজনৈতিক সাক্ষী নম্বর : ০১)</p>
<p style="text-align: justify;">ঞ. তোরাব আলীর মোবাইল ফোনে ভারত এবং সিঙ্গাপুরে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারতীয় হাইকমিশনে ওই টেলিফোনের গ্রাহকদের পরিচয় জানার জন্য চিঠি লেখা হয়েছিল কিন্তু উত্তর পাওয়া যায়নি। (প্রাপ্ত সিডিআর মোবাইল রিপোর্ট দ্রষ্টব্য) মোবাইল ফোন ব্যবহাকারী সম্পর্কে ডিজিএফআই থেকে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই করে অর্থবহ কোনো কিছু উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। (সূত্র : সংযোজনী : ৫৪)</p>
<p style="text-align: justify;">ট. বিডিআর সদস্যদের সঙ্গে বিএসএফের যোগাযোগ হয়েছে এবং সেনাবাহিনী আক্রমণ শুরু করলে বিএসএফের সহায়তায় ভারতে চলে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল। (সূত্র : সেনা তদন্ত প্রতিবেদন, পৃষ্ঠা নম্বর : ৭৬৯)</p>
<p style="text-align: justify;">ঠ. ভারত বাংলাদেশে সামরিক অভিযান চালাবে বলে এসআইঅ্যান্ডটির শিক্ষার্থীদের মেজর জেনারেল তারেক এবং লে. জেনারেল মামুন খালেদ কর্তৃক হুমকি দেওয়া হয়েছিল। (সূত্র : সাক্ষী নম্বর : ৪৭)</p>
<p style="text-align: justify;">ড. তৎকালীন সিজিএস লেফটেন্যান্ট জেনারেল সিনা ইবনে জামালী ১১ ডিভিশনের জিওসির কাছ থেকে এই মর্মে একটি তথ্য পান, ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে সৈন্য সমাবেশ করছে। তারা একটি প্যারাট্রুপার বাহিনীও প্রস্তুত রেখেছে এই জন্য যে, আমাদের সেনাবাহিনী যদি অভিযান পরিচালনা করে, তাহলে তারা শেখ হাসিনাকে উদ্ধার করে নিয়ে যাবে। (সূত্র : সাক্ষী নম্বর : ৫) মেজর জেনারেল মুহম্মদ ফেরদৌস মিয়া, জিওসি ১১ পদাতিক ডিভিশনের ভাষ্যমতে সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সেনা সমাবেশের তথ্যে এফআইইউ সম্ভবত এনএসআই এবং ডিজিএফআই কাছ থেকে শুনেছিল। ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতীয় সৈন্য সমাবেশের তথ্য তিনি যদি শুনে থাকেন, তবে অবশ্যই তিনি সেটা সেনা সদরে জানিয়েছিলেন। তবে বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি। (সূত্র : সাক্ষী নম্বর : ১৩)</p>
<p style="text-align: justify;">ঢ. তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) মঈন উ আহমেদের ভাষ্যমতে, ‘আমি ‘ওড়া’ ‘ওড়া’ খবর পাচ্ছিলাম যে if anything goes wrong, এ রকমটি হতে পারে (সশস্ত্র বাহিনী সরকারের সিদ্ধান্তের বাইরে গেলে ভারত বাংলাদেশে সামরিক অভিযান চালাবে)। যদি তারা (ভারতীয় বাহিনী) আসত, তাহলে ১৯৭১-এর পর যেমন ফেরত চলে গিয়েছিল, এবার এলে আর ফিরে যেত না। এবার ভারতীয় বাহিনী বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অভিযান চালালে Things would have been different। গবেষক অভিনাষ পালিওয়াল ও তার প্রবন্ধে এটাই বলেছেন। এটা আমাদের জন্য would have been very very bad। তিনি দুটো আর্টিকেল লিখেছেন এ বিষয়ে, দুটোই আমার কাছে আছে।’ (সূত্র : সাক্ষী নম্বর : ০১)</p>
<p style="text-align: justify;">ণ. যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের বিখ্যাত স্কুল অব আফ্রিকান অ্যান্ড ওরিয়েন্টাল স্টাডিজের (এসওএএস) শিক্ষক অভিনাষ পালিওয়াল অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস কর্তৃক ২০২৪ সালে প্রকাশিত ‘India’s Near East : A New History’ গ্রন্থের ২৮৬ নম্বর পৃষ্ঠায় লিখেছেন—</p>
<p style="text-align: justify;">The recently elected prime minister Hasina, who also held the defence portfolio, felt threatened and couldn’t count on the army’s support. ‘She asked India for help … and that’s why we were there’, awaiting orders and ‘preparing for all eventualities when we touch down in Dhaka’, remembers Sandhu.</p>
<p style="text-align: justify;">“Shortly after the killings began, Hasina called her closest ally in New Delhi, top Congress leader and recently appointed finance minister Pranab Mukherjee. Upon hearing what was going on, Mukherjee promised ‘to be responsive’. The ‘SOS’ from Dhaka triggered the mobilisation of paratroopers, and prompted foreign secretary Shivshankar Menon to urgently engage with American, British, Japanese, and Chinese envoys to lobby support for Hasina.”</p>
<p style="text-align: justify;">“Apart from Kalaikunda, paratroopers were mobilised in Jorhat and Agartala. If the order came, Indian troops would enter Bangladesh from all three sides. The aim was to secure the Zia International Airport (renamed Hazrat Shahjalal International Airport) and the Tejgaon airport. Subsequently, the paratroopers would wrest control of Ganabhaban, prime minister’s residence, and evacuate Hasina to safety. The Brigade commander overseeing the operation began distributing ‘first line’ ammunition meant for use during active combat.”</p>
<p style="text-align: justify;">ত. অভিনাষ পালিওয়াল বাংলাদেশে নিযুক্ত তৎকালীন ভারতীয় হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তীর উদ্ধৃতি দিয়ে একই পৃষ্ঠায় লিখেছেন—</p>
<p style="text-align: justify;">“Pinak Ranjan Chakravarty, India’s high commissioner to Dhaka (2007-10) who has family origins in Bangladesh and called Hasina ‘Aapa’ (elder sister) out of respect, says that ‘we did put some forces on alert, and conveyed to Hasina that we’re worried about her safety.”</p>
<p style="text-align: justify;">থ. বাংলাদেশের তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) মঈন উ আহমেদ জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের সম্মুখে তার প্রদত্ত সাক্ষ্যে অভিনাষ পালিওয়ালের ওপরে বর্ণিত উদ্ধৃতিগুলো দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেছেন এবং এই উক্তিগুলো রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করেছেন।</p>
<p style="text-align: justify;">দ. অভিনাষ পালিওয়াল একই গ্রন্থের ২৮৭ পৃষ্ঠায় বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্র সচিব, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের উদ্ধৃতি দিয়ে লিখেছেন, ‘I was told by those who were closer to power that Gen. Moeen was asked not to use force otherwise Indian paratroopers will drop in Dhaka within one hour’, says Touhid Hussain, then Bangladesh’s foreign secretary.</p>
<p style="text-align: justify;">এ বিষয়ে জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন কর্তৃক প্রেরিত লিখিত প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন নিম্নে উল্লিখিত উত্তর প্রদান করেন, the sentence that is quoted in Paliwal’s book is correct. While the BDR killing took place, I was attending a SAARC meeting in Colombo. Few months later, when I was already shunted out to Foreign Service Academy, I asked casually someone close to power, why the army chief did not take steps to save his officers. He said what I told Paliwal.</p>
<p style="text-align: justify;">ধ. ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ তারিখে পিলখানায় বিদ্রোহ শুরু হওয়ার পরপরই শেখ হাসিনা ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রণব মুখার্জিকে ফোন করেন এবং তার সরকারের কাছে আন্তর্জাতিক সহায়তা চান। শেখ হাসিনাকে প্রণব মুখার্জি আশ্বাস দেন যে তাকে (শেখ হাসিনাকে) সব ধরনের সহায়তা করা হবে। ভারতের পররাষ্ট্র সচিব শিবশংকর মেনন শেখ হাসিনা সরকারের প্রতি সমর্থন আদায়ের জন্য যুক্তরাজ্য, চীন এবং জাপান সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। (সূত্র : দ্য হিন্দু (ভারতীয়), ২২ নভেম্বর ২০২১ এবং আমার দেশ, ২৮ মার্চ ২০১১, সংযোজনী : ৫৫)</p>
<p style="text-align: justify;">ন. বাংলাদেশ পুলিশ ইমিগ্রেশন প্রশাসন শাখার তথ্য অনুযায়ী ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ পর্যন্ত সময়ে ভারতীয় পাসপোর্টধারী এবং বিদেশি পাসপোর্টধারী ভারতীয় নাগরিকের বাংলাদেশ আগমন এবং বহির্গমনের তথ্য নিম্নরূপ—</p>
<p style="text-align: justify;">১. ২৪-২৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ ভারতীয় পাসপোর্টধারী এবং বিদেশি পাসপোর্টধারী ভারতীয় নাগরিকের বাংলাদেশ আগমন : ৮২৭ জন আগমন করেছে, তার মধ্যে ৬৫ জনের বহির্গমনের তথ্য পাওয়া যায়নি।</p>
<p style="text-align: justify;">২. ২৪-২৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ ভারতীয় পাসপোর্টধারী এবং বিদেশি পাসপোর্টধারী ভারতীয় নাগরিকের বাংলাদেশ থেকে বহির্গমন : ১২২১ জন বহির্গমন করেছে, তার মধ্যে ৫৭ জনের আগমনের তথ্য পাওয়া যায়নি। (সূত্র : বাংলাদেশ পুলিশ ইমিগ্রেশন প্রশাসন শাখা স্পেশাল ব্রাঞ্চ স্মারক নম্বর : ৪৪.০১.০০০০.০৮৬.০০৪.২৫/১৩১১, তারিখ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৯, সংযোজনী : ৫৬)</p>
<p style="text-align: justify;">প. সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশী দেশের সহায়তায় বিডিআরকে পুনর্গঠন করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ বলেন, ‘একবিংশ শতাব্দীতে যাতে আধুনিক সীমান্তরক্ষী বাহিনী গড়ে তোলা যায়, সেই লক্ষ্যে সরকার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বিডিআরকে পুনর্গঠন করে তাদের প্রশিক্ষণসহ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে প্রতিবেশী দেশগুলোর সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। তিনি বলেন, বন্ধুপ্রতিম দেশের সহায়তা নিতে কোনো সমস্যা নেই।’ (সূত্র : দৈনিক যুগান্তর ৬ মে ২০০৯ এবং bdnews24.com uploaded on 5 May 2009)</p>
<p style="text-align: justify;">ফ. ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টা-১১টার দিকে পিলখানার গেট খুলে যায় এবং ভেতর থেকে কয়েকটা মাইক্রোবাস বেরিয়ে আম্বালা পার হয়ে চলে যায়। লে. কর্নেল রওশনুল ফিরোজ (অব.) ভেবেছিলেন তার আটকে পড়া ফ্যামিলি ওই মাইক্রোবাসে চলে যাচ্ছে। দ্বিতীয় মাইক্রোবাসটি বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লে. কর্নেল রওশনুল ফিরোজ মাইক্রোবাসের দরজা ধরে হ্যাঁচকা টান দিয়ে খুলে ফেলেন এবং মাইক্রোবাসটির ভেতরে আলো জ্বলে ওঠে। ভেতরে ছয়-সাতজন লোককে দেখতে পান তিনি। তাদের মাথা ওড়না বা চাদর দিয়ে মোড়ানো ছিল। লে. কর্নেল রওশনুল ফিরোজ তার স্ত্রী এবং বাচ্চার নাম ধরে ডাকাডাকি করতে থাকেন এবং মাইক্রোর ভেতরের পেছনের প্রথম সিটে ট্র্যাক স্যুট পরা জলপাই বা ধূসর কালারের গেঞ্জি গায়ে একজন মোটা গোঁফের লোককে বসা অবস্থায় দেখেন। দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে ওই লোক লে. কর্নেল রওশনুল ফিরোজকে ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করলেন ‘হু’? আবার জিজ্ঞেস করেন, ‘হু’? এরপর জিজ্ঞেস করেন ‘হু আর ইউ’? এরপর তিনবার চিৎকার করে বলেন, ‘ক্লোজ’ ‘ক্লোজ’ ‘ক্লোজ’। মুখ ঢাকা অবস্থায়ও লে. কর্নেল রওশনুল ফিরোজ দুজনকে দেখে বুঝতে পারেন তারা পুরুষ লোক এবং বেশ সুস্বাস্থ্যের অধিকারী এবং তার মনে হয়েছিল তিনি কোনো মিলিটারি পারসন। মাইক্রোবাসের গ্লাস কালো ছিল। লে. কর্নেল রওশনুল ফিরোজ সেকেন্ড বা থার্ড মাইক্রোবাসটাকে ধরেছিলেন। তার আগে আরো একটা বা দুটি মাইক্রোবাস চলে গেছে। গাড়িগুলো ১০টা বা সাড়ে ১০টা বা ১১টার দিকে বের হয়েছে। গাড়ির লোকজনকে অন্তত বাংলাদেশি লোক বলে লে. কর্নেল রওশনুল ফিরোজের মনে হয়নি।’ (সূত্র : সাক্ষী নম্বর : ৬৬)</p>
<p style="text-align: justify;">ব. ১৬ মার্চ ২০০৯-এ India Today-তে প্রকাশিত ‘More than a Mutiny’ নামক এক প্রবন্ধে সৌরভ শুকলা লেখেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০০৯-এ ভারত শেখ হাসিনাকে উদ্ধার করার জন্য প্রস্তুতি শুরু করে। ত্রিপুরায় একটি সম্মুখবর্তী বিমানবাহিনী ঘাঁটিতে দুটি এবং কলকাতায় একটি কমান্ডো প্লাটুন, সে জন্য প্রস্তুত রাখা হয়। (সূত্র : সংযোজনী : ৫৭)</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
		<media:content url="https://images.dailyamardesh.com/original_images/BDR-Killing.jpg" medium="image"></media:content>
            	</item>
		<item>
		<title>বিডিআর হত্যাকাণ্ডের আদ্যোপান্তে যা আছে?</title>
		<link>https://worldbarta.com/news/585682/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[বিশ্ববার্তা ডেস্ক]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 01 Dec 2025 10:48:26 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[বাংলাদেশ]]></category>
		<category><![CDATA[আওয়ামী লীগ]]></category>
		<category><![CDATA[বিজিবি]]></category>
		<category><![CDATA[বিডিআর বিদ্রোহ]]></category>
		<category><![CDATA[ভারত]]></category>
		<category><![CDATA[শেখ হাসিনা]]></category>
		<category><![CDATA[সেনাবাহিনী]]></category>
		<category><![CDATA[হত্যা]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://worldbarta.com/?p=585682</guid>

					<description><![CDATA[ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিডিআর বিদ্রোহের নামে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের আদ্যোপান্ত বের করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে এ বিষয়ে গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন। গতকাল রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি জানিয়েছেন কমিশনের প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমান। এর আগে কমিশন তাদের প্রতিবেদন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দেয়। [&#8230;]]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p style="text-align: justify;">ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিডিআর বিদ্রোহের নামে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের আদ্যোপান্ত বের করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে এ বিষয়ে গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন।</p>
<p style="text-align: justify;">গতকাল রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি জানিয়েছেন কমিশনের প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমান। এর আগে কমিশন তাদের প্রতিবেদন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দেয়।</p>
<ul>
<li><span style="color: #ff0000;">সেনা অভিযান হলে ভারতের হামলার হুমকি ছিলো : জেনারেল মঈনের সাক্ষ্য</span></li>
<li><span style="color: #800000;">ভারত, আ.লীগ ও হাসিনা জড়িত</span></li>
<li><span style="color: #ff0000;">তাপস মূল সমন্বয়কারী</span></li>
<li><span style="color: #800000;">বিডিআর হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দিতে জে. তারেক সিদ্দিকের নেতৃত্বে প্যারালাল সেনা কমান্ড</span></li>
</ul>
<p style="text-align: justify;">সংবাদ সম্মেলনে আ ল ম ফজলুর রহমান বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত কেন বিডিআর হত্যাকাণ্ড হয়েছিল? কারা জড়িত? কারা এটা ঘটাচ্ছে? এর স্বরূপ কী? প্রকৃতি কী? কেন এটা হলো? কারা দায়ী? কীভাবে এটা প্রিভেন্ট করা যেত? যেত কী যেত না? কেন সেনাবাহিনী সামরিক পদক্ষেপ নিল না? কেন পলিটিক্যাল ডিসিশন হলো? এবং কীভাবে ষড়যন্ত্র দানা বেঁধেছিল? কারা এর সঙ্গে জড়িত? সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তিবর্গ- আমরা তাদের আদ্যোপান্ত বের করতে সক্ষম হয়েছি।’</p>
<p style="text-align: justify;">ফজলুর রহমান বলেন, ‘আজকে আমরা জানি কেন এই বিডিআর হত্যাকাণ্ড হয়েছে। আমি যে আমরা আজকে যে তদন্ত রিপোর্ট আমরা তদন্ত রিপোর্ট সাবমিট করলাম। এখানে আমরা সিকিউরিটি ক্লাসিফিকেশন আনক্লাস করছি। মানে এটা কোনো সিকিউরিটি ক্লাসিফিকেশন আমরা দেইনি। তিনি বলেন, ‘সেখানে মিডিয়া, সেনাবাহিনী, অন্যান্য বাহিনী, প্রশাসন, পুলিশের কী রোল ছিল- এগুলো সব আমরা এখানে তুলে ধরেছি।’</p>
<p style="text-align: justify;">প্রতিবেদন তৈরির পুরো প্রক্রিয়া তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে ফজলুর রহমান বলেন, ‘আমরা মোট সাক্ষী গ্রহণ করছি ২৪৭ জনের, শহীদ পরিবারের সদস্যের জবানবন্দি নিয়েছি ১৪ জন, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ১০ জন, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা দুজন, সামরিক কর্মকর্তা ১৩০ জন, অসামরিক কর্মকর্তা চারজন, পুলিশ কর্মকর্তা ২২ জন, বেসামরিক ব্যক্তি নয়জন, সাবেক ও বর্তমান বিডিআর ও বিজিবির সদস্য ২২ জন, কারাগারে আটক ২৬ জন, জাতিসংঘ আবাসিক সমন্বয়কারী একজন, সাংবাদিক তিনজন।</p>
<p style="text-align: justify;">তদন্ত কমিশনের প্রধান বলেন, প্রতিবেদন তৈরির জন্য ভিডিও রেকর্ডিং ও ভিডিও রেকর্ডিংয়ের রিভিউ ও অডিও ট্রান্সক্রিবশনে ৬০০ ঘণ্টা আমরা ব্যয় করেছি। বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া স্থিরচিত্র বা ছবি প্রায় ৮০০, খবরের কাগজে প্রচারিত সংবাদ ২১৫, পত্রালাপের সংখ্যা ৯০৫টি প্রতি মাসে ৮৯টি করে আমরা পত্র লিখেছি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে। মোট ২৭টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমাদের পত্রালাপ হয়েছে।</p>
<p style="text-align: justify;">গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই, এনএসআই ও আর্মির সহযোগিতা পাওয়া গেছে উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘আমি আবারও আমার কমিশনের প্রত্যেকটি সদস্যকে আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই যে, তারা নিজেরা স্বতঃস্ফূর্ত হয়ে কারো আদেশের অপেক্ষা না করে এই কাজ সম্পন্ন করেছেন। আমরা শত শত চিঠি লিখেছি প্রায় বত্রিশ থেকে ছত্রিশটা সংগঠনের কাছে বিভিন্ন তথ্যের জন্য।</p>
<p style="text-align: justify;">তিনি বলেন, ‘একটা উদাহরণ আমি দিই যে, একজন লোকের কাছে দেখা গেল যে, সিঙ্গাপুর থেকে এবং ভারত থেকে থেকে টেলিফোন এসেছে। ওটা চেক করার জন্য আমরা টেলিফোন কোম্পানিকে লিখছি- তারা এক মাস পরে, দুই মাস পরে আমাদের জানাচ্ছে, যে আমাদের কাছে তথ্য আছে। তখন আমরা বললাম- ওই লোকগুলো যারা ওই সময় ছিল তারা কোথায়? আবার এক মাস পরে তারা আমাদের কাছে চিঠি লিখে জানাচ্ছে- তারা পাঁচ বছর, কেউ বলছে দশ বছর হয় চলে গেছে। তাদের খুঁজে বের করে আমরা নিয়ে এসেছি।’</p>
<p style="text-align: justify;">প্রতিবেদন তৈরিতে বিলম্বের অভিযোগ আনা ব্যক্তিদের উদ্দেশে কমিশন বলেছে, ‘এই রকম একটা পরিস্থিতিতে আপনাদের অনেকেরই মনে হতে পারে এটা- এগারো মাস সময় আমাদের কেন লাগল। তবে এটা এগারো মাস কেনো? আরো এগারো মাস দিলেও এর সময়ে কম হবে। তবে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করি আমি। আমার কমিশন সদস্য যারা আছেন, তারা সবাই নিজেরা চেষ্টা করেছেন এবং তাদের কঠোর পরিশ্রম ও চেষ্টার ফলে এবং আমাকে তাদের সঙ্গে কাজ করার যে সুযোগ হয়েছে তার জন্য আমি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করি।</p>
<p style="text-align: justify;">কমিশনের প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমান আরও বলেন, ‘সবাই আমরা একমত হয়েছি এই কমিশনের সমস্ত কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে এবং সবাই আমরা স্বাক্ষর করেছি চূড়ান্ত প্রতিবেদন এবং আজকে সেটা আমরা জাতির কাছে অর্পণ করলাম।’</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
		<media:content url="https://images.dailyamardesh.com/original_images/BDR_Hasina.jpg" medium="image"></media:content>
            	</item>
		<item>
		<title>শহীদ সেনা দিবস: রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার পক্ষে শ্রদ্ধা</title>
		<link>https://worldbarta.com/news/549592/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[বিশ্ববার্তা ডেস্ক]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 25 Feb 2025 06:35:27 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[বাংলাদেশ]]></category>
		<category><![CDATA[জুলাই বিপ্লব]]></category>
		<category><![CDATA[বিজিবি]]></category>
		<category><![CDATA[বিডিআর বিদ্রোহ]]></category>
		<category><![CDATA[বিশ্ববার্তা]]></category>
		<category><![CDATA[সেনাবাহিনী]]></category>
		<category><![CDATA[হত্যা]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://worldbarta.com/?p=549592</guid>

					<description><![CDATA[জাতীয় শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানীর বনানীতে সামরিক কবরস্থানে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টায় বনানীর সামরিক কবরস্থানে শায়িত পিলখানায় শহীদ সামরিক কর্মকর্তা ও সদস্যদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তিনি। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পর সেনা, নৌ [&#8230;]]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p style="text-align: justify;">জাতীয় শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানীর বনানীতে সামরিক কবরস্থানে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।</p>
<p style="text-align: justify;">মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টায় বনানীর সামরিক কবরস্থানে শায়িত পিলখানায় শহীদ সামরিক কর্মকর্তা ও সদস্যদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তিনি।</p>
<p style="text-align: justify;">স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পর সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর প্রধানরা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব ও বিজিবির পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরবর্তীতে শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। শেষে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া করা হয়।</p>
<p style="text-align: justify;">এ সময় সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। জানান পিলখানায় শহীদ সেনাদের পরিবারের দাবি ছিলো সেনা দিবস ঘোষণার। সেটি বাস্তবায়িত হয়েছে। কমিশনের মাধ্যমে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটিত হবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
		<media:content url="https://www.ajkalerkhobor.net/2025/02/25/ak_1740422153.jpg" medium="image"></media:content>
            	</item>
		<item>
		<title>বিডিআর হত্যার মাস্টারমাইন্ড হাসিনা ও ভারতের র</title>
		<link>https://worldbarta.com/news/538781/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[বিশ্ববার্তা ডেস্ক]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 12 Jan 2025 05:05:06 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[বাংলাদেশ]]></category>
		<category><![CDATA[আওয়ামী লীগ]]></category>
		<category><![CDATA[বিডিআর বিদ্রোহ]]></category>
		<category><![CDATA[ভারত]]></category>
		<category><![CDATA[শেখ হাসিনা]]></category>
		<category><![CDATA[সেনাবাহিনী]]></category>
		<category><![CDATA[হত্যা]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://worldbarta.com/?p=538781</guid>

					<description><![CDATA[রাজধানীর পিলখানায় বিডিআর ম্যাসাকারের পরিকল্পনা আগে থেকেই জানতেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর তত্ত্বাবধানে। হত্যাকাণ্ডের জন্য ভারতের প্রশিক্ষিত একটি কিলার গ্রুপকে ঢাকায় আনা হয়। এরা ভাড়া করা বিপথগামী বিডিআর সদস্যদের সঙ্গে মিলে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। হত্যার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে মেজর জেনারেল (অব.) তারেক সিদ্দিক, [&#8230;]]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p style="text-align: justify;">রাজধানীর পিলখানায় বিডিআর ম্যাসাকারের পরিকল্পনা আগে থেকেই জানতেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর তত্ত্বাবধানে। হত্যাকাণ্ডের জন্য ভারতের প্রশিক্ষিত একটি কিলার গ্রুপকে ঢাকায় আনা হয়।</p>
<p style="text-align: justify;">এরা ভাড়া করা বিপথগামী বিডিআর সদস্যদের সঙ্গে মিলে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। হত্যার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে মেজর জেনারেল (অব.) তারেক সিদ্দিক, আওয়ামী লীগ নেতা শেখ সেলিম, শেখ ফজলে নূর তাপস, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মির্জা আজম এবং সেনাবাহিনী ও পুলিশের কিছু কর্মকর্তা জড়িত ছিলেন।</p>
<p style="text-align: justify;">রাজধানী পিলখানার সদর দপ্তরে ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঘটেছিল দেশের ইতিহাসে নৃশংসতম এই বিডিআর হত্যাকাণ্ড। আমার দেশ অনুসন্ধানে এ সম্পর্কে বেরিয়ে এসেছে এসব তথ্য।</p>
<p style="text-align: justify;">অনুসন্ধানে জানা যায়, ভারতীয় কিলার গ্রুপের একটি অংশকে খেলোয়াড় বেশে বিডিআরের একটি পিকআপে করে এবং আরেকটি অংশকে রোগী সাজিয়ে নম্বরবিহীন অ্যাম্বুলেন্সে করে পিলখানায় ঢোকানো হয়। রাতে অ্যাম্বুলেন্সে করে তারা পিলখানা ত্যাগও করে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের ধারণা ভারতীয় কিলার গ্রুপটিকে ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে বিমানের দুবাইগামী ফ্লাইটে তুলে দেওয়া হয়।</p>
<p style="text-align: justify;">এজন্য ফ্লাইটটি দুই ঘণ্টা বিলম্বে ছাড়ে। আরও জানা গেছে, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর লোকজন ও কিলার গ্রুপের সদস্যরা ফার্মগেটে অবস্থিত তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের হোটেল ইম্পেরিয়াল ব্যবহার করেছে। নাম-পরিচয় গোপন রেখে ইম্পেরিয়াল হোটেলে তারা অবস্থান নিয়েছিলেন। পিলখানায় সংঘটিত ঘটনা ‘বিডিআর বিদ্রোহ’ হিসেবে চালানো হলেও এটি ছিল একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। সেনাপ্রধান হিসেবে বিডিআর হত্যা মোকাবেলা তথা সেনা কর্মকর্তাদের বাঁচাতে ব্যর্থ হয়েছেন জেনারেল মঈন ইউ আহমেদ। হত্যাকাণ্ডের দায় তিনি এড়াতে পারেন না।</p>
<p style="text-align: justify;">অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পিলখানার সিসি টিভি ফুটেজসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত ধ্বংস করে দেন ঘটনার পরপর দায়িত্ব পাওয়া বিডিআর ডিজি লে. জেনারেল মইনুল ইসলাম। বিডিআর হত্যাকাণ্ডে সেনাবাহিনীর তদন্ত কমিটি ও জাতীয় তদন্ত কমিটির তদন্ত অসম্পূর্ণ রাখা হয়। ওই তদন্ত কমিটিতে আওয়ামী লীগ নেতাদের সংশ্লিষ্টতার নাম এলেও শেখ হাসিনা তাদের রিপোর্টে অন্তর্ভুক্ত করতে দেননি এবং কমিটিতে এদের জিজ্ঞাসাবাদও করতে দেওয়া হয়নি।</p>
<p style="text-align: justify;">সেনা তদন্ত কমিটির প্রধান ছিলেন লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। বর্তমানে তিনি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল ওই তদন্ত সম্পর্কে। তিনি বলেন, তার নেতৃত্বাধীন তদন্ত সম্পর্কে এ মুহূর্তে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ইতোমধ্যে তিনি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার দায়িত্বে রয়েছেন এবং সরকার বিডিআরের সাবেক ডিজি মো. জেনারেল আ ল ম ফজলুল রহমানের নেতৃত্বে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করেছেন। তিনি এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে রয়েছেন। তিনি বলেন, তারা আশা করছেন বর্তমান কমিশন বিডিআর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উন্মোচন করবে।</p>
<p style="text-align: justify;">আগে জাতীয় তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছিল সচিব আনিসুজ্জামানের নেতৃত্বে। তার মন্তব্যের জন্য ফোনে যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি। সূত্র জানিয়েছে, তিনি সম্ভবত দেশে নেই।</p>
<p style="text-align: justify;">বিডিআর হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে অনুসন্ধানে আমার দেশ আগের দুটি তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পর্যালোচনা করেছে। তদন্ত কমিটি দুটির কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে আলাপ হয়। অনেকেই নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন। ঘটনার সঙ্গে ওয়াকিবহাল এমন কয়েক ব্যক্তি ও সাবেক কয়েকজন সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। বিষয়গুলো স্পর্শকাতর হওয়ায় নাম প্রকাশ করা হয়নি।</p>
<p style="text-align: justify;">সেনা তদন্ত কমিটি এবং জাতীয় তদন্ত কমিটি দুটিতে বাহিনী প্রধান, সেনাবাহিনী ও পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ, আওয়ামী লীগ নেতা অনেককেই বক্তব্য দেওয়ার জন্য ডাকা হয়। তাদের অনেকেই তদন্ত কমিটির সামনে আসেননি। কেউ কেউ এলেও তাদেরকে প্রশ্ন করার সুযোগ দেওয়া হয়নি। তদন্ত কমিটির সামনে আসা ও প্রশ্নের জবাব দিতে বাধ্য করার ক্ষমতাও দেওয়া হয়নি তদন্ত কমিটিকে। ফলে বিডিআর হত্যা তদন্ত কাজ অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে দুই কমিটিতেই।</p>
<p style="text-align: justify;">সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, বিডিআর হত্যাকাণ্ড ভারতীয় পরিকল্পনায় হয়েছে। শেখ হাসিনা যাতে ক্ষমতায় চিরস্থায়ী হতে পারেন সেটা পাকাপোক্ত করার জন্য তার সঙ্গে বোঝাপড়া করেই পরিকল্পনা করা হয়।</p>
<p style="text-align: justify;">ভারত দেখেছে তারা বাংলাদেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে যখনই কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে, তখন বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর জন্য তারা অনেক কিছুই করতে পারেনি। বিডিআর-এ সেনাবাহিনীর অফিসাররা কমান্ডে থাকায় সেখানে ভারতীয় বিএসএফ-এর ভূমিকা ম্লান ছিল। তাই তাদের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ছিল তারা শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় এনে এমন শক্তিশালী করবে যাতে সবকিছু তার হাতের মুঠোয় থাকে।</p>
<p style="text-align: justify;">সেনাবাহিনী যাতে দুর্বল হয়ে যায়, বিডিআর নামে যাতে শক্তিশালী বাহিনী না থাকেÑ এ লক্ষ্যেই বিডিআর হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। এর আগে নীলনকশা অনুযায়ী বিডিআর সদস্যদের হাত করা হয়। তারা যাতে সেনা অফিসারদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে সে জন্য তথাকথিত ডাল-ভাত কর্মসূচি ও দুর্নীতির বিষয় এনে প্রেক্ষাপট তৈরি করা হয়।</p>
<p style="text-align: justify;">চৌকস সেনা অফিসারদের হত্যার জন্য বিডিআর-এ বদলি করে এনে এক জায়গায় তাদের জড়ো করা হয়। এরপর তাদের হত্যা করা হয়। পদোয়া এবং রৌমারীর যুদ্ধে বিএসএফ হত্যার পর থেকেই বিডিআর ধ্বংসে নিয়োজিত হয় ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’। রৌমারীর ঘটনার নেতৃত্ব দেন রংপুরের তৎকালীন সেক্টর কমান্ডার পরবর্তী সময়ে বিডিআর ডিজি মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ। এরই ফল ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি তাকেসহ ৫৭ সেনাকর্মকর্তা হত্যা।</p>
<p style="text-align: justify;"><img fetchpriority="high" decoding="async" class="aligncenter size-full" src="https://images.dailyamardesh.com/original_images/bdr-2_tNZq8V5.jpg" width="1280" height="720" /></p>
<p style="text-align: justify;"><span style="color: #003300;"><strong>সাহারা খাতুনের হোটেলে কিলার গ্রুপ</strong></span></p>
<p style="text-align: justify;">সূত্রে জানা গেছে, ফার্মগেটে অবস্থিত সাহারা খাতুনের হোটেল ইম্পেরিয়ালে এনে তোলা হয় ভারতীয় প্রশিক্ষিত একটি সন্ত্রাসী খুনি চক্রকে। ওই হোটেলে ‘র’-এর লোকজনও অবস্থান নেয়। ঘটনার দিন সকালে বিডিআর দরবার হলের সামনে একটি পিকআপ আসে খেলোয়াড়দের নিয়ে। বিডিআর-এর পিকআপে খেলোয়াড় বেশে ছিল কিলার বাহিনীর অনেক সদস্য। নম্বরবিহীন অ্যাম্বুলেন্সে করেও আরেকটি গ্রুপকে পিলখানায় ঢোকানো হয়।</p>
<p style="text-align: justify;">এরা আগে থেকে ভাড়া করা বিপথগামী বিডিআরদের সঙ্গে মিলে হত্যাকাণ্ড চালায়। বিডিআর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিলের মৃত্যু এরা নিশ্চিত করে। দরবার হলের দক্ষিণ গেটে বিপথগামীদের সঙ্গে কিলার গ্রুপটি ছিল এবং এরা সকাল ১০টা সাড়ে ১০টার মধ্যেই ডিজি, ডিডিজিসহ ১৫ থেকে ১৮ জনকে হত্যা করে। ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে পিলখানার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে আরেক দফা হত্যাকাণ্ড চালানো হয়। বাইরের কিলার গ্রুপটি রাতে চারটি নম্বরবিহীন অ্যাম্বুলেন্সে করে পিলখানা ত্যাগ করে। ধারণা করা হয় বিমানের দুবাই ফ্লাইটে এদের তুলে দেওয়া হয়েছে।</p>
<p style="text-align: justify;"><span style="color: #003300;"><strong>ভারতীয় চ্যানেল কীভাবে বিডিআর ডিজি হত্যার খবর আগেই দিল?</strong></span></p>
<p style="text-align: justify;">বিডিআর ঘটনায় হতাহতের খবর তখনও জানাজানি হয়নি। এ অবস্থায় দুপুরেই ভারতের এনডিটিভিসহ দুটি চ্যানেলে খবর প্রচার করে যে বাংলাদেশে বিডিআর দপ্তরে বিদ্রোহে বিডিআর প্রধান মেজর জেনারেল শাকিল এবং সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মুজিবকে হত্যা করা হয়েছে। এ খবর সঙ্গে সঙ্গে ভারতীয় চ্যানেল কীভাবে প্রচার করে তা রহস্যজনক।</p>
<p style="text-align: justify;">এ খবর যখন প্রচারিত হয় তখন প্রধানমন্ত্রী যমুনায় নিয়ে যান ডিএডি তৌহিদের নেতৃত্বে ১৪ জন কিলারকে। এদেরকে শেরাটন হোটেল থেকে খাবার এনে খাওয়ানো হয়। ঠিক এ সময়ে একদিকে ভারতীয় চ্যানেল বিডিআর ডিজির হত্যার খবর দেয়, অন্যদিকে পিলখানার ড্রেন দিয়ে বেরিয়ে আসে কর্নেল মুজিব ও কর্নেল এনায়েতের লাশ। ওই দিনই কিলার গ্রুপের একটি অংশ ভাড়া করা বিডিআর সদস্যদের নিয়ে জেনারেল শাকিলের বাংলোতে গিয়ে তার স্ত্রী ও অন্যদের নির্মমভাবে হত্যা করে। ওই সময় বাংলোতে অতিথি হিসেবে এসেছিলেন কর্নেল দেলোয়ার তার স্ত্রীকে নিয়ে। তারাও হত্যার শিকার হন। বাসার কাজের মেয়েকেও হত্যা করা হয়। জেনারেল শাকিলের স্ত্রীকে সবশেষে হত্যার করা হয় রান্না ঘরে নির্যাতন করে, নির্মমভাবে।</p>
<p style="text-align: justify;"><strong>সেনা ও র‌্যাবকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি</strong></p>
<p style="text-align: justify;">সূত্র আরও জানায়, ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানার ঘটনার খবর পেয়ে দশটার মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে র‌্যাবের একটি টহল দল। এই টহল দলটি তখন বেড়িবাঁধে টহলে ছিল। এরপর র‌্যাবের অন্য সদস্যরাও আসেন। কিন্তু পিলখানায় তাদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি।</p>
<p style="text-align: justify;">মিরপুরে ফায়ারিং রেঞ্জে ছিল ৪৬ ব্রিগেডের একটি আর্টিলারি ইউনিট। এই ইউনিট প্রথমে আসে পিলখানার কাছে। কিন্তু তাদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। র‌্যাব এবং সেনা অগ্রদলটিকে তখন পিলখানায় ঢুকতে দেওয়া হলে ঘটনা এতদূরে গড়াত না। কারণ ভেতরে ডিউটিরত বিডিআর সদস্যদের কাছে যেসংখ্যক অস্ত্র ও গোলা বারুদ ছিল তার কয়েকগুণ বেশি অস্ত্র ও গোলাবারুদ ছিল সেনাবাহিনী ও র‌্যাবের তাৎক্ষণিক আসা দল দুটির কাছে।</p>
<p style="text-align: justify;">এরা ঢুকতে পারলে সহজেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসে যেত। কিন্তু তাদের ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়নি। তখন পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। বিডিআর-এর কর্নেল রেজানুর ও কর্নেল শামস প্রশাসনিক দায়িত্বে ছিলেন। তারা ভেতরে ঢুকতে অনুমতি দেননি। অথচ সাংবাদিক মুন্নি সাহা দশটার পর থেকেই পিলখানার প্রধান গেটে গিয়ে বিডিআর-এর ডিএডিসহ জওয়ানদের সাক্ষাৎকার নিয়ে এটিএন-এ লাইভ করেন। এতে ডাল-ভাত কর্মসূচির দুর্নীতির জন্য বিডিআর অসন্তোষ থেকে বিদ্রোহ হচ্ছে প্রচার করা হয়। এটাও রহস্যজনক।</p>
<p style="text-align: justify;">সংশ্লিষ্ট সূত্রের প্রশ্ন সেদিন কেন র‌্যাবকে ‍ঢুকতে দেওয়া হলো না, কেন সেনা অগ্রদলকে ঢুকতে দেওয়া হলো না, কেন মুন্নী সাহা ঘটনার পরপরই এমন উদ্দেশ্যমূলক খবর প্রচার করতে থাকলেন, বিদ্রোহীরা কেন নানক ছাড়া কারও সঙ্গে কথা বলবে না বলল, গোয়েন্দা সংস্থা কেন বলল তাদের কোনো গোয়েন্দা নজরদারি পিলখানায় ছিল না। প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কাছে যমুনায় যে ১৪ জন কিলারকে নেওয়া হলো তাদের সিলেক্ট করল কে? ডিজিএফআই পিলখানা প্রধান গেটের কাছে আমবালা মিষ্টির দোকানে ক্যাম্প করেছিল, তারা সেখানে কি কাজ করেছে? পিকআপে করে যারা দরবারের সামনে গেল তারা কারা ছিল?</p>
<p style="text-align: justify;"><strong>পিলখানায় লাশ পোড়ানো ও গণকবর</strong></p>
<p style="text-align: justify;">পিলখানা হত্যাযজ্ঞে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনের লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার জন্য ষড়যন্ত্র করেছিল পরিকল্পনাকারীরা। দুটি লাশ তারা পুড়িয়ে দেয়। কিন্তু পরে গণকবর খুড়ে লাশগুলো মাটিচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। ৩৩ ঘণ্টার লোমহর্ষক ঘটনার পর পিলখানা পুলিশের নিয়ন্ত্রণে এলে সেখানে একাধিক গণকবর থেকে লাশ তোলা হয়। সব লাশ গণকবরে চাপা দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় ড্রেনেও ফেলে দেওয়া হয়। গুলি ছাড়াও কোনো কোনো লাশে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে মারার আলামত দেখা যায়। এই ঘটনায় ৫৭ সেনাকর্মকর্তার মধ্যে সেনাবাহিনীর একজন সৈনিক ছিলেন। ১৭ জন ছিলেন বেসামরিক লোক। ৩ জন ছিলেন মহিলা। মেজর জেনারেল শাকিলের স্ত্রী, কর্নেল দেলোয়ারের স্ত্রী এবং একজন কাজের মেয়ে।</p>
<p style="text-align: justify;"><span style="color: #003300;"><strong>ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসান নাসিরের অভিজ্ঞতা</strong></span></p>
<p style="text-align: justify;">বিডিআর ঘটনার পর পর সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনকে কনভেনর ও অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামকে ডেপুটি কনভেনর করে প্রথম তদন্ত কমিটি করা হয়। এই কমিটিতে সামরিক বাহিনী থেকে সদস্য দেওয়া হয়। সেনাবাহিনী থেকে দেওয়া হয় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসান নাসিরকে।</p>
<p style="text-align: justify;">ব্রিগেডিয়ার হাসান নাসির সেদিনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন আমরা সামরিক বাহিনীর সদস্যরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে যাই। এক পাশে গিয়ে বসি। সেনাবাহিনীর ‘ল’ অফিসার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নূর মোহাম্মদ ছিলেন, নেভির সদস্যও ছিলেন। এমন সময় দেখলাম, সাহারা খাতুন, কামরুল ইসলাম ও সচিব হাবিবুল আউয়াল (পরবর্তী সময়ে সিইসি) হাসতে হাসতে কক্ষে ঢুকলেন। তদন্ত নিয়ে কথাবার্তা নেই, অন্য প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলছেন, চা বিস্কুট খাচ্ছেন।</p>
<p style="text-align: justify;">এমন একটা ভাব যেন সব কিছু স্বাভাবিক। আমাদের আর সহ্য হলো না। আমি হাত উঠিয়ে বললাম আমার প্রশ্ন আছে। সাহারা খাতুন বললেন, বলুন। এটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় না, জাতীয় তদন্ত কমিটি প্রশ্ন করতেই সবাই চুপ। সাহারা খাতুন বললেন, কেন আপনি জানেন না, এটা জাতীয় তদন্ত কমিটি? আমি বললাম, আপনি তো সাক্ষী দেবেন। আপনি তো পিলখানার ভেতরে গিয়েছেন ঘটনার পরপরই। ওখানে অফিসারদের মারা হয়েছে, গুলিবর্ষণ হয়েছে।</p>
<p style="text-align: justify;">ভেতরে থাকা অবস্থায় ২ ঘণ্টায় কী দেখলেন আপনাকে বলতে হবে। এরপর সভা ভেঙে যায়। সচিব বললেন, চলেন আমরা পিলখানা পরিদর্শনে যাই। শেখ হাসিনার বুলেট প্রুফ গাড়িতে করে গেলেন সাহারা খাতুন, অ্যাডভোকেট কামরুল, আইজিপি, নানক, মির্জা আজম। পিলখানা ঘুরে সন্ধ্যায় বাসায় যাই। পরদিন ৩টায় বিডিআর অফিসার্স মেসে আমাদের বসার কথা।</p>
<p style="text-align: justify;">সকালে শুনি কমিটি বাতিল হয়েছে। সচিব আনিসুজ্জামানের নেতৃত্বে নতুন তদন্ত কমিটি হয়েছে। আমাকে রাখা হয়নি। এ ঘটনায় তরুণ অফিসারদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া হয়। পরে আবার আমাকে কমিটিতে রাখা হয়। তদন্ত শুরু হয়। কিন্তু সবকিছু আড়াল করার আলামত লক্ষ্য করলাম। জড়িত আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রশ্ন করতে চাইলাম কিন্তু প্রশ্ন করতে দেওয়া হলো না। পরে যে রিপোর্ট তৈরি হলো সেটা দায়সারা একটা রিপোর্ট ছিল। আমি এর সঙ্গে একমত হলাম না। ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছি।</p>
<p style="text-align: justify;"><span style="color: #003300;"><strong>গোয়েন্দা ব্যর্থতা ও তাপসের বিডিআরের পোশাক সংগ্রহ</strong></span></p>
<p style="text-align: justify;">পিলখানা ঘটনায় গোয়েন্দা ব্যর্থতা ছিল রহস্যজনক। বিডিআর প্যারেডের আগে থেকেই কিছু ঘটনা ঘটছে। ২২ ফেব্রুয়ারি একটি লিফলেট বিতরণ হয়েছে। পিলখানার সর্বত্র লিফলেট লাগিয়ে দেওয়া হয়। ওই সময় অস্ত্র ভাণ্ডার থেকে দুটি অস্ত্র খোয়া যায়। শোনা যায়, ফজলে নূর তাপস বিডিআর-এর ২৫টি পোশাক বানিয়ে বাইরে নিয়ে গেছেন।</p>
<p style="text-align: justify;">কিন্তু এসব কিছুই জানত না ডিজিএফআই। মেজর জেনারেল মোল্লা আকবর ওই লিফলেট পাওয়া সত্ত্বেও কোনো ব্যবস্থা নেননি। পরে বলেছেন, আমাদের এজেন্ট পিলখানার ভেতরে ছিল না। এতবড় একটা ঘটনা ঘটল আর তিনি জানেন না বা তাদের লোক নিয়োজিত করেননি তা কি বিশ্বাসযোগ্য? আসলে গোয়েন্দা ব্যর্থতার চেয়ে অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় ডিজিএফআইয়ের একটি অংশও এই চক্রান্তের সঙ্গে ছিল তখন।</p>
<p style="text-align: justify;"><span style="color: #003300;"><strong>আনসারের ডিজি কেন অস্ত্র নিয়ে গেলেন?</strong></span></p>
<p style="text-align: justify;">প্রধানমন্ত্রীর প্যারেডে অস্ত্র নিয়ে যাওয়ার কোনো নিয়ম নেই। কিন্তু ২৪ ফেব্রুয়ারি প্যারেডে তৎকালীন আনসারের ডিজি মেজর জেনারেল এটিএম আমিন সৈনিকসহ অস্ত্রসহ গেছেন। তার গাড়িতে অস্ত্র ছিল। প্রশ্ন উঠেছে বিডিআরে যে এমন ঘটনা ঘটবে তিনিও কি জানতেন?</p>
<p style="text-align: justify;"><span style="color: #003300;"><strong>ব্ল্যাংক অ্যামুনেশন কোথায় থেকে এলো?</strong></span></p>
<p style="text-align: justify;">ঘটনার দিন বিপুল ব্ল্যাংক ফায়ার হয়েছে পিলখানায়। ব্ল্যাংক অ্যামুনেশন ট্রেনিংয়ে ব্যবহার হয়। পিলখানায় ব্ল্যাংক অ্যামুনেশন থাকার কথা নয়। এত ব্ল্যাংক অ্যামুনেশন কোথা থেকে এলো এটাও রহস্যজনক।</p>
<p style="text-align: justify;">পিলখানায় গার্ডের দায়িত্বে বিডিআরের যারা ছিলেন তাদের হাতে যেসংখ্যক অস্ত্র ও গোলাবারুদ ছিল তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি ছিল বাইরে অপেক্ষমাণ সেনাবাহিনীর টিম ও র‌্যাবের কাছে। পিলখানায় বড়জোর ৩-৫ হাজার গুলি ছিল ডিউটিরতদের কাছে। আর বাইরে সেনাদল ও র‌্যাবের কাছে ছিল ১০ হাজারের বেশি গুলি। এদের ঢুকতে দেওয়া হলে পরিস্থিতি ভিন্ন রকম হতে পারত।</p>
<p style="text-align: justify;"><span style="color: #003300;"><strong>বিডিআর নাম বদলে বিজিবি করার ষড়যন্ত্র</strong></span></p>
<p style="text-align: justify;">বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পর এ বাহিনীর নাম পাল্টানোর প্রথম দাবি তুলেন মেজর জেনারেল (অব.) সিআর দত্ত। তিনি এখন প্রয়াত। এরপর বিডিআরের ডিজি হিসেবে যোগদান করেন লে. জেনারেল (অব.) মইনুল ইসলাম। তিনি বিডিআর-এর পোশাক পরেননি। সেনা বাহিনীর পোশাক পরে দায়িত্ব পালন করেছেন। ভারতীয়রা বিডিআর-এর নাম পাল্টে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করে আসছে অনেক আগ থেকে। সেটা তার মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে। এমনকি বিডিআর-এর নাম বিজিবি করার আগেই তিনি বিজিবির নাম লিখে ঈদকার্ড ছাপিয়ে বিতরণ করেন।</p>
<p style="text-align: justify;"><span style="color: #003300;"><strong>তদন্ত কমিটির রিপোর্ট টেম্পারিং</strong></span></p>
<p style="text-align: justify;">বর্তমানে রেড ক্রিসেন্টের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল রফিক বিডিআর ঘটনার তদন্ত কমিটিতে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ হচ্ছে তিনি শেখ হাসিনার আস্থাভাজন হিসেবে তদন্ত কমিটির রিপোর্ট টেম্পারিং করেছেন। অর্থাৎ প্রকৃত ঘটনা আড়াল করার কাজ করেছেন। শেখ হাসিনার সরকার তাকে ব্রিগেডিয়ার থেকে মেজর জেনারেল পদোন্নতি দিয়ে বিডিআর ডিজি করেছেন।</p>
<p style="text-align: justify;">অন্তর্বর্তী সরকার তাকে রেডক্রিসেন্টের চেয়ারম্যান করায় বিডিআর হত্যাকাণ্ডের শহীদ পরিবার এবং সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের বক্তব্য হচ্ছে বিডিআর হত্যাকাণ্ড মানবতার বিরুদ্ধে একটি অপরাধ। এ ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার ব্যাপারে যার সংশ্লিষ্টতা আছে তিনি কি করে এ আমলে রেড ক্রিসেন্টের চেয়ারম্যান হন?</p>
<p style="text-align: justify;"><span style="color: #003300;"><strong>আইসিটিতে শেখ হাসিনা গংসহ সুনির্দিষ্ট ৫৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের</strong></span></p>
<p style="text-align: justify;">পিলখানা হত্যাকান্ডে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের সন্তানরা ওই বর্বরোচিত ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) আবেদন করেছেন। জানা গেছে, আবেদনে তারা শেখ হাসিনাসহ ৫৪ জন সুনির্দিষ্ট ব্যক্তির নামসহ তাদের সঙ্গে আরো যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন। আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে শেখ হাসিনা ছাড়াও রয়েছেন মেজর জেনারেল তারেক আহমেদ সিদ্দিক, ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, শেখ সেলিম, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও মির্জা আজম।</p>
<p style="text-align: justify;">অভিযুক্ত সেনাকর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল মঈন উ আহমেদ, ডিজিএফআই’র সাবেক ডিজি মেজর জেনারেল (অব.) মোল্লা ফজলে আকবর, মেজর জেনারেল (অব.) মামুন খালেদ, ইমরুল কায়েস, এনএসআই-এর তৎকালীন ডিজি, র‌্যাবের তৎকালীন ডিজি, ডিডিজি, ডাইরেক্টর অপারেশন, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের তৎকালীন আইজি নূর মোহাম্মদ প্রমুখ। শহীদদের সন্তানরা মনে করছেন, পিলখানা হত্যাকান্ডে ভারতীয় পরিকল্পনা বাস্তবায়নে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে সেনাবাহিনী ও পুলিশের অসৎ কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশ ছিল।</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
		<media:content url="https://amardeshcnd.ideahubbd.com/images/bdr-1_GWtZZ0e.width-800.webp" medium="image"></media:content>
            	</item>
		<item>
		<title>বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে তদন্ত কমিশন হচ্ছে</title>
		<link>https://worldbarta.com/news/486446/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[বিশ্ববার্তা ডেস্ক]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 17 Dec 2024 03:16:27 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[বাংলাদেশ]]></category>
		<category><![CDATA[আওয়ামী লীগ]]></category>
		<category><![CDATA[বিজিবি]]></category>
		<category><![CDATA[বিডিআর বিদ্রোহ]]></category>
		<category><![CDATA[বিশ্ববার্তা]]></category>
		<category><![CDATA[সেনাবাহিনী]]></category>
		<category><![CDATA[হত্যা]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://worldbarta.com/?p=486446</guid>

					<description><![CDATA[বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্তে ৫ কার্যদিবসের মধ্যে কমিটি গঠন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) সকালে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিং কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার চায় অন্তবর্তী সরকার। এ নিয়ে বিভ্রান্তির সুযোগ নেই। সে অনুযায়ী বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্তে কমিটি গঠন [&#8230;]]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p style="text-align: justify;">বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্তে ৫ কার্যদিবসের মধ্যে কমিটি গঠন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) সকালে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিং কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।</p>
<p style="text-align: justify;">তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার চায় অন্তবর্তী সরকার। এ নিয়ে বিভ্রান্তির সুযোগ নেই। সে অনুযায়ী বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্তে কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ৫ কার্যদিবসের মধ্যে কমিটি গঠন করা হবে। সদস্যের সংখ্যা ৫ থেকে ৯ জন হতে পারে। সদস্যদের মধ্যে থাকবেন সশস্ত্রবাহিনীর সদস্য, অবসরপ্রাপ্ত বিচারক ও পুলিশ সদস্য।</p>
<p style="text-align: justify;">আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নারকীয় বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্তের দাবি ওঠে। এ নিয়ে হাইকোর্ট দায়ের করা রিটে তদন্ত কমিশন গঠনের নির্দেশনা দেয়া হয়।</p>
<p style="text-align: justify;">এ নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আইনি মতামত চায় আইন মন্ত্রণালয়ের। এরপর পুনঃতদন্ত নিয়ে কমিশন গঠনের ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়। কমিশন গঠনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের ঘোষণা দেয়। এ অবস্থায় সকালে বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্তে ৫ কার্যদিবসের মধ্যে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত জানালো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।</p>
<hr />
<h3>বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে তদন্ত কমিশন হচ্ছে না</h3>
<p style="text-align: justify;">বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে দু’টি মামলা বিচারাধীন থাকায় আপাতত কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত থেকে সরকার সরে এসেছে বলে হাইকোর্টকে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।</p>
<p style="text-align: justify;">রোববার (১৫ ডিসেম্বর) বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চকে এ তথ্য জানান ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তানিম খান।</p>
<p style="text-align: justify;">স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সহকারী সচিব মো. মফিজুল ইসলামের সই করা এ-সংক্রান্ত স্মারকে বলা হয়, বিষয়টি (পিলখানা হত্যাকাণ্ড) জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিধায় সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে; আদালতে এ সংক্রান্ত দুটি মামলা বিচারাধীন থাকায় এ পর্যায়ে অন্য কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি।</p>
<p style="text-align: justify;">শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বিডিআর হত্যার পুরো ঘটনার তদন্তে কমিশন গঠনের কথা জানায় সরকার।</p>
<p style="text-align: justify;">২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদরদপ্তরে বিদ্রোহের ঘটনায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিহত হন। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোড়ন তোলে ওই ঘটনা। সেই বিদ্রোহের পর সীমান্ত রক্ষা বাহিনী বিডিআরের নাম বদলে যায়, পরিবর্তন আসে পোশাকেও। এ বাহিনীর নাম এখন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবি।</p>
<p style="text-align: justify;">বিদ্রোহের বিচার বিজিবির আদালতে হলেও হত্যাকাণ্ডের মামলা বিচারের জন্য আসে প্রচলিত আদালতে। এই ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা হয়। হত্যা মামলায় খালাস বা সাজাভোগ শেষে বিস্ফোরক মামলার কারণে মুক্তি আটকে আছেন ৪৬৮ বিডিআর সদস্যের।</p>
<p style="text-align: justify;">হত্যা মামলায় ৮৫০ জনের বিচার শেষ হয় ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর। তাতে ১৫২ জনের ফাঁসি, ১৬০ জনের যাবজ্জীবন ও ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। খালাস পান ২৭৮ জন।</p>
<p style="text-align: justify;">২০১৭ সালের ২৭ নভেম্বর সেই মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায়ও হয়ে যায় হাই কোর্টে। তাতে ১৩৯ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়। যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয় ১৮৫ জনকে। আরো ২২৮ জনকে দেওয়া হয় বিভিন্ন মেয়াদে সাজা। খালাস পান ২৮৩ জন।</p>
<p style="text-align: justify;">হাই কোর্টের রায়ের আগে ১৫ জনসহ সব মিলিয়ে ৫৪ জন আসামি মারা গেছেন। হত্যা মামলায় হাই কোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে ২২৬ জন আসামি আপিল ও লিভ টু আপিল করেছেন। অন্যদিকে হাই কোর্টে ৮৩ জন আসামির খালাস এবং সাজা কমানোর রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। এসব আপিল ও লিভ টু আপিল এখন শুনানির অপেক্ষায়।</p>
<p style="text-align: justify;">অন্যদিকে বিস্ফোরক আইনের মামলায় ৮৩৪ জন আসামির বিরুদ্ধে বিচারকাজ শুরু হয়েছিল ২০১০ সালে। কিন্তু মাঝপথে বিস্ফোরক মামলার কার্যক্রম এক প্রকার স্থগিত রেখে শুধু হত্যা মামলার সাক্ষ্য উপস্থাপন করে রাষ্ট্রপক্ষ। যে কারণে এই মামলার বিচার ঝুলে যায়। পরে বিডিআর বিদ্রোহের পুরো ঘটনা তদন্তের দাবি ওঠে।</p>
<h3>৫৭ সেনা কর্মকর্তা হত্যার বদলা চান আযমী</h3>
<p style="text-align: justify;">ঢাকার পিলখানায় তৎকালীন সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিডিআরের (বর্তমানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি) সদরদপ্তরে বিদ্রোহে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বদলা চাইলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুল্লাহিল আমান আযমী ৷</p>
<p style="text-align: justify;">মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।</p>
<p style="text-align: justify;">আবদুল্লাহিল আমান আযমী বলেন, কুরআনে আছে খুনের বদলে খুন। আমি তদন্ত করে বিচারের আহ্বান জানাই। বিগত সরকারের আমলে যারা তদন্ত করেছে তারা যদি দায়সারা ভাবে করে&#8230;।</p>
<p style="text-align: justify;">তিনি বলেন, দেশের সবগুলো প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। নতুন সরকার এই প্রতিষ্ঠানগুলো ঢেলে সাজাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।</p>
<p style="text-align: justify;">আযমী বলেন, ‌‘যখন আমার বাসায় তারা আসল তখন তাদের কাছে আমি জানতে চেয়েছিলাম আপনারা কারা, পরিচয় কী, পরিচয়পত্র দেখান। তারা আমার কথার জবাব দেননি। আমি বেশ কিছু প্রশ্ন করেছি তারা কোনো কথার জবাব দেননি। এক অফিসার আমাকে তুই করে সম্বোধন করে। আমার সঙ্গে খুবই খারাপ ব্যবহার করে। এক পর্যায়ে আমাকে গ্রেফতার করে গাড়িতে নিয়ে চোখ বেঁধে দেয়। সে সময় আমাকে ও সেনাবাহিনীকে নিয়ে খুবই খারাপ ব্যবহার করে।’</p>
<p style="text-align: justify;">তিনি বলনে, ‌‘আমি ফিরে এসে জানতে পারলাম আমার পরিবারের ওপর তারা কী পরিমাণ নির্যাতন চালিয়েছে। আমার স্ত্রীর গায়ে হাত তুলতে চেয়েছিল তারা। এক পর্যায়ে আমার স্ত্রীকে তুলে নিতে চাইলে স্ত্রী আমার মাকে সঙ্গে নিতে বলে তখন তারা তাকে নেয়নি। এ সময় আমার বাড়ির কাজের মেয়ের ওপর হাত চালিয়েছে। বাসার ম্যানেজার ও দারোয়ানসহ সকলের ওপর তারা হামলা চালায়।’</p>
<p style="text-align: justify;">তিনি বলেন, ‘আমার চোখ-মুখ বাঁধা অবস্থায় একটা জায়গায় নিয়ে গেল। তারা আমাকে পোশাক দিল। রাতে আমাকে খাবার দেয় কিন্তু খাওয়ার মতো অবস্থায় ছিলাম না। টয়লেট যেতে চাইলে তারা আমার চোখ-হাত বেঁধে নিয়ে যেত। প্রায় ৫০ কদম হাঁটার পর টয়লেটে যেতাম।’</p>
<p style="text-align: justify;">সাবেক ব্রিগেডিয়ার বলেন, ‘বারবার মনে হতো তারা হয়ত আমাকে ক্রস ফায়ার করে হত্যা করবে। আমি রাতে তাহাজ্জুদ পড়ে আল্লাহর কাছে শুধু কান্না করতাম আল্লাহ আমার লাশটা যেন কুকুরদের খাদ্যে পরিণত না হয়। আমার লাশটা যেন আমার পরিবারের কাছে যায়। সব সময় এ দোয়াটাই করতাম।’</p>
<p style="text-align: justify;">প্রসঙ্গত, জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির প্রয়াত গোলাম আজমের মেজো ছেলে সেনাবাহিনীর সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী ৮ বছর গুম থাকার পর গত ৭ আগস্ট পরিবারের কাছে ফিরেন।</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
		<media:content url="https://dailyinqilab.com/mediaStorage/content/images/2024August/img-20240825-wa0017-20240825130922.jpg" medium="image"></media:content>
            	</item>
		<item>
		<title>বিডিআর বিদ্রোহ ১২ বছর, শোক ও স্তব্দে বাংলাদেশ</title>
		<link>https://worldbarta.com/news/388306/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[বিশ্ববার্তা ডেস্ক]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 25 Feb 2024 06:49:39 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[বাংলাদেশ]]></category>
		<category><![CDATA[গৃহযুদ্ধ]]></category>
		<category><![CDATA[বিডিআর বিদ্রোহ]]></category>
		<category><![CDATA[বিশ্ববার্তা]]></category>
		<category><![CDATA[মৃত্যু]]></category>
		<category><![CDATA[সেনাবাহিনী]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://worldbarta.com/?p=388306</guid>

					<description><![CDATA[পিলখানার বিডিআর বিদ্রোহ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুটো ফৌজদারি মামলা দায়ের হলেও গত ১২ বছরে একটিরও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। হত্যা মামলার রায় ঘোষণা হবার পর সেটি এখন সর্বোচ্চ আদালতে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে। অন্যদিকে বিস্ফোরক মামলা এখনো আটকে আছে নিম্ন আদালতে। এখনও ওই মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে। ২০১৩ সালে নিম্ন আদালতের রায়ের পর তিন বছর আগে [&#8230;]]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div class="bbc-19j92fr ebmt73l0" dir="ltr">
<p class="bbc-12k5sdr e17g058b0" dir="ltr" style="text-align: justify;"><b>পিলখানার <a href="https://bn.wikipedia.org/wiki/বিডিআর_বিদ্রোহ" target="_blank" rel="noopener">বিডিআর বিদ্রোহ</a> ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুটো ফৌজদারি মামলা দায়ের হলেও গত ১২ বছরে একটিরও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি।</b></p>
</div>
<div class="bbc-19j92fr ebmt73l0" dir="ltr" style="text-align: justify;">
<p class="bbc-12k5sdr e17g058b0" dir="ltr">হত্যা মামলার রায় ঘোষণা হবার পর সেটি এখন সর্বোচ্চ আদালতে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে। অন্যদিকে বিস্ফোরক মামলা এখনো আটকে আছে নিম্ন আদালতে। এখনও ওই মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে।</p>
</div>
<div class="bbc-19j92fr ebmt73l0" dir="ltr">
<p class="bbc-12k5sdr e17g058b0" dir="ltr" style="text-align: justify;">২০১৩ সালে নিম্ন আদালতের রায়ের পর তিন বছর আগে হাইকোর্টেও হত্যা মামলার রায় ঘোষণা হয়েছে, কিন্তু আপিল বিভাগে শুনানি শুরু না হওয়ায় চূড়ান্ত নিষ্পত্তির বিষয়টি এখনও অনিশ্চিত।</p>
<div class="bbc-19j92fr ebmt73l0" dir="ltr" style="text-align: justify;">
<h2 id="নিম্ন-আদালতে-হত্যা-মামলার-রায়" class="bbc-8zh0ns eglt09e0" tabindex="-1">নিম্ন আদালতে হত্যা মামলার রায়:</h2>
</div>
<div class="bbc-19j92fr ebmt73l0" dir="ltr">
<p class="bbc-12k5sdr e17g058b0" dir="ltr" style="text-align: justify;">২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬শে ফেব্রুয়ারি বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় ৫৭ জন <a href="https://worldbarta.com/news/tag/army/" target="_blank" rel="noopener">সেনা</a> কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিহত হন।</p>
<div class="bbc-19j92fr ebmt73l0" dir="ltr" style="text-align: justify;">
<p class="bbc-12k5sdr e17g058b0" dir="ltr">এই ঘটনার চার বছর পর ২০১৩ সালের ৫ই নভেম্বর নিম্ন আদালত হত্যা মামলায় রায় ঘোষণা করে।</p>
</div>
<div class="bbc-19j92fr ebmt73l0" dir="ltr" style="text-align: justify;">
<p class="bbc-12k5sdr e17g058b0" dir="ltr">এই হত্যা মামলার মোট আসামির সংখ্যা ছিল ৮৫০ জন।</p>
</div>
<div class="bbc-19j92fr ebmt73l0" dir="ltr" style="text-align: justify;">
<p class="bbc-12k5sdr e17g058b0" dir="ltr">নিম্ন আদালতের রায়ে ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, এছাড়া ২৫৬ জনকে ১৭ থেকে ১ বছর পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।</p>
</div>
<div class="bbc-19j92fr ebmt73l0" dir="ltr" style="text-align: justify;">
<p class="bbc-12k5sdr e17g058b0" dir="ltr">মামলায় খালাস পেয়েছেন ২৭৮ জন।</p>
</div>
<div class="bbc-19j92fr ebmt73l0" dir="ltr">
<p class="bbc-12k5sdr e17g058b0" dir="ltr" style="text-align: justify;">বাকি ৪ আসামী নিম্ন আদালতে রায় ঘোষণার আগেই মারা যান। এছাড়া রায় ঘোষণার পরে মারা যান আরও ১১জন।</p>
<div class="bbc-19j92fr ebmt73l0" dir="ltr" style="text-align: justify;">
<h2 id="হাইকোর্টে-মামলার-রায়" class="bbc-8zh0ns eglt09e0" tabindex="-1"><a href="https://worldbarta.com/news/tag/high-court/" target="_blank" rel="noopener">হাইকোর্টে</a> মামলার রায়:</h2>
</div>
<div class="bbc-19j92fr ebmt73l0" dir="ltr" style="text-align: justify;">
<p class="bbc-12k5sdr e17g058b0" dir="ltr">১৫ জনের মৃত্যুর কারণে উচ্চ আদালতে মোট ৮৩৫ আসামীর শুনানি শুরু হয়।</p>
</div>
<div class="bbc-19j92fr ebmt73l0" dir="ltr" style="text-align: justify;">
<p class="bbc-12k5sdr e17g058b0" dir="ltr">৩৭০ কার্য দিবস শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ২৬ ও ২৭শে নভেম্বর রায় ঘোষণা করে হাইকোর্ট।</p>
</div>
<div class="bbc-19j92fr ebmt73l0" dir="ltr" style="text-align: justify;">
<p class="bbc-12k5sdr e17g058b0" dir="ltr">সেখানে মোট ৫৫২ জনকে শাস্তির আওতায় আনা হয়। খালাস দেয়া হয় ২৮৩ জনকে।</p>
</div>
<div class="bbc-19j92fr ebmt73l0" dir="ltr" style="text-align: justify;">
<p class="bbc-12k5sdr e17g058b0" dir="ltr">নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৫২ জন আসামীর মধ্যে ১৩৯ জনের <a href="https://worldbarta.com/news/tag/death-news/" target="_blank" rel="noopener">মৃত্যু</a>দণ্ডের রায় বহাল রাখে হাইকোর্ট। ৮ জনকে মৃত্যুদণ্ড থেকে যাবজ্জীবন প্রদান করা হয় এবং ৫ জন খালাস পান।</p>
</div>
<div class="bbc-19j92fr ebmt73l0" dir="ltr" style="text-align: justify;">
<p class="bbc-12k5sdr e17g058b0" dir="ltr">বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম এত বেশি সংখ্যক আসামির সাজা হাইকোর্টে অনুমোদন হয়।</p>
</div>
<div class="bbc-19j92fr ebmt73l0" dir="ltr" style="text-align: justify;">
<p class="bbc-12k5sdr e17g058b0" dir="ltr">নিম্ন আদালতে ১৬০ জন যাবজ্জীবন প্রাপ্ত আসামীর মধ্যে হাইকোর্ট ১৪৬ জনের সাজা বহাল রাখে এবং ১৪ জনকে খালাস দেয়।</p>
</div>
<div class="bbc-19j92fr ebmt73l0" dir="ltr" style="text-align: justify;">
<p class="bbc-12k5sdr e17g058b0" dir="ltr">তবে নিম্ন আদালতে যাদেরকে খালাস দিয়েছিল, তাদের মধ্যে ৬৯ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করলে হাইকোর্ট ৩১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়।</p>
</div>
<div class="bbc-19j92fr ebmt73l0" dir="ltr" style="text-align: justify;">
<p class="bbc-12k5sdr e17g058b0" dir="ltr">৪ জনকে ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং ৩৪ জনের খালাস আদেশ বহাল রাখে।</p>
</div>
<div class="bbc-19j92fr ebmt73l0" dir="ltr" style="text-align: justify;">
<p class="bbc-12k5sdr e17g058b0" dir="ltr">সে হিসেবে হাইকোর্টে মোট যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে ১৮৫ জনকে।</p>
</div>
<div class="bbc-19j92fr ebmt73l0" dir="ltr">
<p class="bbc-12k5sdr e17g058b0" dir="ltr" style="text-align: justify;">এছাড়া ২২৮ জনকে ১৩ থেকে ১ বছর পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়।</p>
<div class="bbc-19j92fr ebmt73l0" dir="ltr" style="text-align: justify;">
<h2 id="চূড়ান্ত-নিষ্পত্তি-থমকে-আছে" class="bbc-8zh0ns eglt09e0" tabindex="-1">চূড়ান্ত নিষ্পত্তি থমকে আছে</h2>
</div>
<div class="bbc-19j92fr ebmt73l0" dir="ltr" style="text-align: justify;">
<p class="bbc-12k5sdr e17g058b0" dir="ltr">হাইকোর্টের এই রায়ের পর তিন বছর পেরিয়ে গেলেও সর্বোচ্চ আদালতে এখনও আপিল শুনানি শুরু করা যায়নি।</p>
</div>
<div class="bbc-19j92fr ebmt73l0" dir="ltr" style="text-align: justify;">
<p class="bbc-12k5sdr e17g058b0" dir="ltr">ফলে মামলাটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তির বিষয়টি থমকে আছে।</p>
</div>
<div class="bbc-19j92fr ebmt73l0" dir="ltr" style="text-align: justify;">
<p class="bbc-12k5sdr e17g058b0" dir="ltr">মূলত, হাইকোর্টের রায়ে খালাস ও সাজা কম পাওয়া মোট ৮৩ জন আসামির মৃত্যুদণ্ড চেয়ে লিভ টু আপিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। এ ধরনের আপিলের সংখ্যা ২০টি।</p>
</div>
<div class="bbc-19j92fr ebmt73l0" dir="ltr" style="text-align: justify;">
<p class="bbc-12k5sdr e17g058b0" dir="ltr">অন্যদিকে, মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন সাজা পাওয়া দুই শতাধিক আসামি খালাস চেয়ে আপিল করেছেন। এ ধরনের আপিলের সংখ্যা ৪৭টি।</p>
</div>
<div class="bbc-19j92fr ebmt73l0" dir="ltr" style="text-align: justify;">
<p class="bbc-12k5sdr e17g058b0" dir="ltr">সব মিলিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত দুই পক্ষের ৬৭টি আপিল ও লিভ টু আপিল দায়ের করা হয়েছে। যা এখন চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে।</p>
</div>
<div class="bbc-19j92fr ebmt73l0" dir="ltr" style="text-align: justify;">
<p class="bbc-12k5sdr e17g058b0" dir="ltr">তবে একে দীর্ঘসূত্রিতা বলতে চান না সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী বিশ্বজিৎ দেবনাথ।</p>
</div>
<div class="bbc-19j92fr ebmt73l0" dir="ltr" style="text-align: justify;">
<p class="bbc-12k5sdr e17g058b0" dir="ltr">তার মতে, <a href="https://worldbarta.com/news/tag/bangladesh/" target="_blank" rel="noopener">বাংলাদেশ</a> ইতিহাসে এতো বড় সংখ্যক আসামী নিয়ে কোন আইন এতো দ্রুত নিষ্পত্তি হয়নি। এটি অনেক বড় কাজ। সে হিসেবে নিম্ন আদালত ও উচ্চ আদালতে খুব অল্প সময়ে রায় ঘোষণা হয়েছে।</p>
</div>
<div class="bbc-19j92fr ebmt73l0" dir="ltr" style="text-align: justify;">
<p class="bbc-12k5sdr e17g058b0" dir="ltr">২০২০ সালের ৮ জানুয়ারি হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ পেলেও বিচারিক প্রক্রিয়ার নানা জটিলতার কারণে আপিল শুনানি শুরু হতে দেরি হচ্ছে বলে আইনজীবীরা জানান।</p>
</div>
<div class="bbc-19j92fr ebmt73l0" dir="ltr" style="text-align: justify;">
<p class="bbc-12k5sdr e17g058b0" dir="ltr">সংবিধান অনুযায়ী রায়ের কপি পাওয়ার ত্রিশ দিনের মধ্যে আপিল করার বিধান রয়েছে।</p>
</div>
<div class="bbc-19j92fr ebmt73l0" dir="ltr" style="text-align: justify;">
<p class="bbc-12k5sdr e17g058b0" dir="ltr">আপিলের সময় পেরিয়ে গেলেও কারণ দেখিয়ে ও জরিমানা দিয়ে আপিলের সুযোগ রয়েছে বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন।</p>
</div>
<div class="bbc-19j92fr ebmt73l0" dir="ltr" style="text-align: justify;">
<p class="bbc-12k5sdr e17g058b0" dir="ltr">সব আপিল দায়ের সম্পন্ন হলে দুইপক্ষ সার সংক্ষেপ জমা দেবে। এরপর আপিল শুনানির জন্য তৈরি হবে। এভাবেই বিচার প্রক্রিয়া চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন হবে। এরপর রিভিউ আবেদন করারও সুযোগ থাকবে। যা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার।</p>
</div>
<div class="bbc-19j92fr ebmt73l0" dir="ltr">
<p class="bbc-12k5sdr e17g058b0" dir="ltr" style="text-align: justify;">মি রায় বলেন &#8220;এসব আপিল শুনানি করে যদি সুপ্রিম কোর্ট মনে করে যে, হাইকোর্টের ভুল আছে তাহলে সেই ভুলগুলো সংশোধন করবে, তখন আইনজীবীরা তাদের আপিল নিয়ে কথা বলার সুযোগ পাবেন। পুরো বিষয়টি সময়সাপেক্ষ।&#8221;</p>
<div class="bbc-19j92fr ebmt73l0" dir="ltr" style="text-align: justify;">
<h2 id="বিস্ফোরক-মামলা-ঝুলে-আছে" class="bbc-8zh0ns eglt09e0" tabindex="-1">বিস্ফোরক মামলা ঝুলে আছে</h2>
</div>
<div class="bbc-19j92fr ebmt73l0" dir="ltr" style="text-align: justify;">
<p class="bbc-12k5sdr e17g058b0" dir="ltr">এদিকে বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলাটির বিচারকাজ ২০১১ সালে শুরু হলেও এখনও ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের সাক্ষ্য গ্রহণ পর্যায়ে আটকে আছে।</p>
</div>
<div class="bbc-19j92fr ebmt73l0" dir="ltr" style="text-align: justify;">
<p class="bbc-12k5sdr e17g058b0" dir="ltr">পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ২৩ ও ২৪শে মার্চ দিন ধার্য করা হয়েছে।</p>
</div>
<div class="bbc-19j92fr ebmt73l0" dir="ltr" style="text-align: justify;">
<p class="bbc-12k5sdr e17g058b0" dir="ltr">মোট সাক্ষীর সংখ্যা ১৩৪৫ জন জন হলেও এ পর্যন্ত সাক্ষ্য গ্রহণ হয়েছে মাত্র ১৮৫ জনের।</p>
</div>
<div class="bbc-19j92fr ebmt73l0" dir="ltr" style="text-align: justify;">
<p class="bbc-12k5sdr e17g058b0" dir="ltr">মামলার মোট আসামির ৮৩৪ জন। এরমধ্যে ২৪ জন মারা গেছেন এবং পলাতক আছেন ২০ জন।</p>
</div>
<div class="bbc-19j92fr ebmt73l0" dir="ltr" style="text-align: justify;">
<p class="bbc-12k5sdr e17g058b0" dir="ltr">দুটি মামলার একই আসামী হওয়ায়, তাদের নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রতি মাসে দুই থেকে তিন দিন মামলার কার্যক্রম চালানো হয়।</p>
</div>
<div class="bbc-19j92fr ebmt73l0" dir="ltr" style="text-align: justify;">
<p class="bbc-12k5sdr e17g058b0" dir="ltr">এভাবে ধীর গতিতে এই মামলার কার্যক্রম চলতে থাকায় চূড়ান্ত নিষ্পত্তি কবে হতে পারে সেটা এখনও অনিশ্চিত।</p>
</div>
<div class="bbc-19j92fr ebmt73l0" dir="ltr">
<p class="bbc-12k5sdr e17g058b0" dir="ltr" style="text-align: justify;">হত্যা মামলায় খালাস পাওয়া ব্যক্তিরা এই বিস্ফোরক মামলার আসামি হওয়ায় তাদেরকে মুক্তি দেয়া যাচ্ছে না।</p>
<div class="bbc-19j92fr ebmt73l0" dir="ltr" style="text-align: justify;">
<p class="bbc-12k5sdr e17g058b0" dir="ltr">তবে বিশ্বজিৎ রায় বলছেন, বিস্ফোরক মামলায় আসামী সংখ্যা অনেক বেশি হলেও প্রসিকিউশন যদি মনে করে তার সবার সাক্ষ্য গ্রহণের দরকার নাই। অল্প কয়েকজনের স্বাক্ষ্য গ্রহণের ভিত্তিতে মামলা প্রমাণ করা সম্ভব। তাহলে তারা সবার সাক্ষ্য ছাড়াই রায় ঘোষণা করতে পারেন।</p>
</div>
<div class="bbc-19j92fr ebmt73l0" dir="ltr">
<p class="bbc-12k5sdr e17g058b0" dir="ltr" style="text-align: justify;">সাক্ষ্যদের সাক্ষ্য নিতে পদ্ধতিগত বাঁধা থাকলেও আন্তরিকতার অভাব নেই বলে তিনি জানান।</p>
</div>
</div>
</div>
</div>
</div>
</div>
</div>
]]></content:encoded>
					
		
		
		<media:content url="https://ichef.bbci.co.uk/ace/ws/800/cpsprodpb/5332/production/_117289212_52a050c4-1bf5-41b8-8c11-d148d4d45382.jpg" medium="image"></media:content>
            	</item>
	</channel>
</rss>
