সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে প্রতিবেশী ভারতের ছাত্র সংগঠন ‘অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন’।
বামপন্থী সংগঠনটির জাতীয় কমিটির প্রেসিডেন্ট নিলাশীষ বোস এবং জেনারেল সেক্রেটারি প্রসেনজিৎ কুমার সাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছেঃ সরকারি চাকরিতে বৈষম্যমূলক কোটা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বন্ধের দাবিতে হাজার হাজার শিক্ষার্থী যখন বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজপথে নামে; তখন তাদের শুধু পুলিশই নয়, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কর্তৃক সহিংস রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের মুখোমুখি হতে হয়। তারা রড, লাঠি ও ঢিল নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অহংকারীভাবে কোটার বিরোধিতাকারীদের ‘রাজাকার’ হিসেবে আখ্যা দেন মন্তব্য করে বিবৃতিতে বলা হয়ঃ আমরা বাংলাদেশের সংগ্রামী শিক্ষার্থী এবং যুবকদের, বিশেষ করে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ছাত্রনেতাদের সাথে নিরঙ্কুশ একাত্মতা প্রকাশ করছি, যারা মর্যাদাপূর্ণ ও নিরাপদ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে বৈষম্যমূলক কর্মসংস্থান নীতির বিরুদ্ধে ধর্মঘটের মাধ্যমে ন্যায্য দাবি জানালেও তাদের পেটানো ও গ্রেফতার করা হচ্ছে।
মাঠে নামার ঘোষণা ছাত্রদল সভাপতির
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার ইস্যুতে আজ থেকেই শিক্ষর্থীদের সঙ্গে তারা মাঠে নামবেন বলে জানিয়েছেন ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। সেইসঙ্গে চলমান আন্দোলনে যোগ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে দলটি।
মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) কোটা সংস্কার আন্দোলনে সংঘর্ষের বিষয়ে রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন এ ঘোষণা দেন তিনি।
এদিকে, সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বৈষম্যমূলক কোটাব্যবস্থা সংস্কারের যৌক্তিক দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।
নির্দলীয় নেতৃত্বে দলমত নির্বিশেষে দেশপ্রেমিক শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে চলমান বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল পুনরায় পূর্ণ সংহতি ঘোষণা করছে। তারা আন্দোলনরত সব শিক্ষার্থীকে মেধাবিরোধী কোটা ব্যবস্থার মূল উৎস সমূলে ধ্বংস করতে লুণ্ঠিত গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা, লুটপাট-দুর্নীতি ও লাগামহীন দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে এবং সর্বোপরি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার সংগ্রামেও সোচ্চার হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।
ঢাবিতে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের উপর ছাত্রলীগের হামলার অভিযোগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের এক নেত্রীসহ সংগঠনটির ঢাবি শাখার ছয় নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। সোমবার ইফতারের পর সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক মানসুরা আলম, ঢাবির সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হল শাখা ছাত্রদলের রাজু আহমেদ, জহুরুল হক হলের যুগ্ম সম্পাদক মেহেদী হাসান, বঙ্গবন্ধু হলের সহ-সাধারণ সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান, এসএম হলের কর্মী কাফি ও জিয়া হলের কর্মী মাহমুদ। ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকতের নির্দেশনায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এ হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেছে ছাত্রদল।
সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ছাত্রদলের সভাপতি নাছির উদ্দিন শাওন অভিযোগ করেন, ইফতারের পর ছাত্রদল নেতাকর্মীরা ঢাকা মেডিকেলের দিকে যাচ্ছিল। এমন সময় ছাত্রলীগের ছেলেরা তাদের ওপর হামলা করে। আমার হলের ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের ওপরও হামলা করা হয়েছে।
ঢাবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় ৬ জন আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে গুরুতর আহত মানসুরা আলম দুই কানেই শুনতে পাচ্ছে না। রাজু আহমেদ বাম চোখে ও পুরো শরীরে আঘাত করা হয়েছে, মেহেদী নামে আরেকজনের মাথায় ১০টি সেলাই লেগেছে- তার পুরো শরীরে আঘাত করা হয়েছে। এছাড়া আমান এবং কাফি মাথায় মারাত্মক আঘাত পেয়েছেন।
এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন গণমাধ্যমকে বলেন, আমি এই সম্পর্কে কিছুই জানি না। এমন কিছু হয়ে থাকলে জেনে ব্যবস্থা নেব।
আপনার মন্তব্য লিখুন