তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)- এর মতাদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিদেশে যাওয়া ও সংগঠনের পক্ষে উগ্রবাদী কনটেন্ট আদান-প্রদানসহ ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দুই জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
গত ২ জুলাই সাভার থেকে মো. ফয়সাল (৩৩) এবং মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ থেকে শামীম মাহফুজকে (৪৮) গ্রেপ্তার করা হয়।
ফয়সালকে গ্রেপ্তার করে এন্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) এবং শামীম মাহফুজকে গ্রেপ্তার করে এটিইউ’র কাছে হস্তান্তর করে র্যাব-১১।
মো. ফয়সাল বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার আমতলী এলাকার মৃত ইব্রাহিমের ছেলে এবং শামীম মাহফুজ গাইবান্ধার কলেজ পাড়া এলাকার মৃত আজীজ উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ জানায়, ২ জুলাই রাত ৯টা ৫ মিনিটে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মোড়ের ‘ভাই ব্রাদার্স টেলিকম’ দোকানের কাছ থেকে ফয়সালকে গ্রেপ্তার করা হয়। ৫ জুলাই তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে ফয়সাল জানান, আহমেদ জুবায়ের ওরফে যুবরাজসহ ২০২৪ সালের ১৮ অক্টোবর সৌদি আরবে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়েন। ২৯ অক্টোবর তারা পাকিস্তানে পৌঁছান এবং ৬ নভেম্বর তুরখাম সীমান্ত দিয়ে আফগানিস্তানে প্রবেশ করেন।
১০ নভেম্বর ফয়সাল পুনরায় পাকিস্তানে ফিরে আসেন এবং করাচি থেকে দুবাই হয়ে ১৬ নভেম্বর বাংলাদেশে ফেরেন। তার সঙ্গী জুবায়ের পাকিস্তানের ওয়াজিরিস্তান সীমান্তে সেনা অভিযানে মারা যায়।
ফয়সাল আরও বলেন, “আল ইমরান ওরফে ইঞ্জিনিয়ার ইমরান হায়দার নামের এক ব্যক্তি টিটিপির হয়ে কয়েকজন বাংলাদেশিকে উদ্বুদ্ধ ও সংঘবদ্ধ করছেন। তিনি নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমার সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন এবং খিলাফত প্রতিষ্ঠার দাওয়াত দেন।”
এজাহারে বলা হয়েছে, ফয়সালের সঙ্গে রেজাউল করিম আবরার, আসিফ আদনান, জাকারিয়া মাসুদ, মো. সানাফ হাসানসহ আরও কয়েকজন ধর্মীয় উগ্রবাদে দীক্ষিত হয়ে ‘জিহাদে অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুত’ রয়েছে।
এটিইউ-এর পুলিশ সুপার ব্যারিস্টার মাহফুজুল আলম রাসেল বলেন, “তেহরিক-ই-তালেবান টিটিপি’র সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে মো. ফয়সাল ও শামীম মাহফুজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ২ জুলাই সাভার থেকে ফয়সালকে গ্রেপ্তারের পর পরদিন তাকে ১৫৪ ধারায় আদালতে পাঠানো হয়। আদালত তাকে জেলে পাঠিয়ে দেন। ৫ জুলাই নিয়মিত মামলা রুজু হয়।”
তিনি আরও বলেন, “নারায়ণগঞ্জ থেকে শামীম মাহফুজকে আটকের পর ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করে তাকে আদালতে পাঠানো হয় এবং আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। তিনি এখন আমাদের হেফাজতে আছেন।”
আপনার মন্তব্য লিখুন