ফরিদপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের সাথে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বেলা ১০টার দিকে কযেক হাজার শিক্ষার্থী মেডিকেল কলেজের সামনে থেকে মিছিল নিয়ে বের হয়। মিছিলটি আলীপুর গোরস্তানের সামনে গেলে তাদের উপর ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে কিছু যুবলীগের কর্মীরা। এ সময় শিক্ষার্থীদের ধাওয়ায় তারা পালিয়ে যায়। পরে মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থীরা জেলা আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা চালায়।
হামলাকারীরা এ সময় আওয়ামী লীগ অফিস ও সেখানে রাখা বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়। এরপর শিক্ষার্থীরা শহরের বিভিন্ন স্থানে থাকা শোক দিবসের গেট ভেঙে ফেলে। শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে জেলখানার সামনে দিয়ে যাবার সময় সেখানে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। সে সময় পুলিশ বিপুল সংখ্যক টিয়ারসেল ও হ্যান্ড গ্রেনেড ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়। মিছিলকারীরা পরে রাজেন্দ্র কলেজের রুকসু ভবনের ছাত্রলীগের অফিস পুড়িয়ে দেয়।
এ সময় তারা যুবলীগ নেতার একটি রেস্টুরেন্ট ভাঙচুর করে। এ সময় আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন কমলাপুরস্থ বাড়িতে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। মিছিলকারীরা পরে থানা রোডে থাকা যুবলীগের মিছিলটি ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় কয়েক হাজার শিক্ষার্থী কোতয়ালী থানায় ইট পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। পুলিশ এসময় টিয়ারসেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পরে শিক্ষার্থীরা পূর্ব খাবাসপুর মোড়ে অবস্থান নেয়।
পুলিশের ঊদ্ধর্তন কর্মকর্তা শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। বেলা ১টার দিকে ফের হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে জনতা ব্যাংক মোড় এলাকায়। শহরের বিভিন্ন স্থানে এখনো শিক্ষার্থীদের সাথে পুলিশের পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটছে।
রংপুরে সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৩, নিহতদের একজন আ.লীগ নেতা
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘোষিত সরকার পতনের এক দফা দাবি আদায়ে রংপুরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এসময় আওয়ামী লীগের থানা কমিটির সভাপতি হারাধন রায় হারাসহ ৩ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া সংঘর্ষে উভয় পক্ষের শতাধিক আহত হয়েছেন।
রোববার (৪ আগস্ট) দুপুরে সিটি বাজারসংলগ্ন জেলা পরিষদ কমিউনিটি সেন্টারের পাশে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় তারা নিহত হন। নিহত হারাধন রায় হারা নগরীর পশুরাম থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি করপোরেশনের ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ছিলেন।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত সর্দার আব্দুল জলিল ও মিজানুর রহমান মিজান তিনজন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে দু’জনের নাম-পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
এর আগে, সকাল ১০টা থেকে রংপুর টাউন হলের সামনে সড়কে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থীরা আসতে শুরু করে। এক ঘন্টার মধ্যে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার শিক্ষার্থী সেখানে জমায়েত হয়ে সরকারের পতনে এক দফা দাবিতে নানা স্লোগান দিতে থাকেন। ‘আগস্ট মাসে কিসের শোক, সবার আগে বিচার হোক’, ‘আমরা আছি থাকব, যুগে যুগে লড়ব’, ‘দিয়েছি তো রক্ত, আরও দেব রক্ত’, ‘রক্তের বন্যায়, ভেসে যাবে অন্যায়’, ‘লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছ’ বিভিন্ন স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত করে পুরো এলাকা। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে অনেক অভিভাবকও আন্দোলনে যোগ দেন।
বেলা ১২টার দিকে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা লাঠিসোটা, ইটপাটকেল নিয়ে ভাঙ্গা মসজিদের সামনে এগিয়ে গেলে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু যায়। আধাঘণ্টা ধরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় রক্তক্ষয়ী সংর্ঘষ চলে। পরে আন্দোলনকারীদের তোপের মুখে পিছু হটতে হয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের। এসময় সিটি করপোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হারাধন হারাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের এখন আলোচনায় বসতে বলতেছেন, বঙ্গবন্ধু তো আলোচনায় বসেননি। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, আমার ভাইয়ের লাশের ওপর দিয়ে আলোচনায় বসতে পারব না। তাই আর কোন আলোচনা নয়, বর্তমান সরকারের পদত্যাগ করা ছাড়া এর কোনো সমাধান নাই।’
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের সরকারের পেটোয়া বাহিনী প্রকাশ্যে গুলি চালাচ্ছে। আজকের কর্মসূচিতে আমাদের অন্তত দুইশো শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে।’
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) আবু মারুফ বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে আমরাই অনেকটা অবরুদ্ধ রয়েছি। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।’
নওগাঁয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা
এক দফা দাবি আদায়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অসহযোগ আন্দোলনের অংশ হিসেবে নওগাঁয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
রোববার (৪ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে শহরের কাজীর মোড়ে জড়ো হতে শুরু করেন বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। পরে আন্দোলনকারীরা প্রধান সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে বন্ধ হয়ে যায় যানচলাচল। এ সময় এক দফা দাবিতে বিভিন্ন শ্লোগান দিতে শোনা যায় তাদের।
এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোল ঘিরে পুলিশ, বিজিবি, সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা যায়।
এসময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের দাবি আদায়ে আন্দোলন করছি। এক দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’
অপরদিকে শহরের সরিষাহাটির মোড়ে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়ে আছেন।
দফায় দফায় সংঘর্ষের পর সিলেটজুড়ে থমথমে অবস্থা
সিলেট নগরীর কোর্ট পয়েন্টে পুলিশ-আন্দোলনকারীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার পর সংঘর্ষ ছড়িয়েছে বিভিন্ন স্থানে। বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সাথে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষের পর সিলেটজুড়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
দুপুরে নগরীর কোর্ট পয়েন্টে অবস্থান নেয় আন্দোলনকারীরা। এসময় পুলিশের সাথে সংঘর্ষ শুরু হয়। আন্দোলনকারীদের ইটপাটকেলের জবাবে পুলিশ গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এরপর কোর্ট পয়েন্টে আরও কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়।
বেলা ১টা থেকে নগরীর জিন্দাবাজার, চৌহাট্টা, বারুতখানা, জেলরোড, হাওয়াপাড়া, মিরবক্সটুলা, নয়াসড়ক ও আম্বরখানাসহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীরা অবস্থান নেয়। সড়ক ব্যারিকেড দিয়ে তারা যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। পুলিশ দেখামাত্র তারা ‘ভ‚য়া ভ‚য়া’ স্লোগান দিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে।
জবাবে পুলিশ রাবার বুলেট, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেণেড ছুঁড়ে। মুর্হুমুর্হু গুলির শব্দ ও সংঘর্ষের খবরে নগরজুড়ে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। আতঙ্কে নগরের গুরুত্বপুর্ণ সড়কের পার্শ্ববর্তী দোকানপাট ও মার্কেট বন্ধ হয়ে গেছে। রাস্তাঘাট ফাঁকা রয়েছে।
নগরীর বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা সশস্ত্র অবস্থান নেওয়ারও খবর পাওয়া গেছে।
কুমিল্লায় গুলিতে যুবক নিহত
কুমিল্লার দেবিদ্বারে গুলিতে এক যুবক নিহত হয়েছেন। রবিবার দুপুর দেড়টায় দেবিদ্বার আজগর আলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আরো অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। নিহত ওই যুবক আব্দুল রাজ্জাক রুবেল (২৬)। তিনি দেবিদ্বার পৌর এলাকার বারেরা গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে।
রুবেলের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলী এহসান। তিনি বলেন, রুবেলে মৃতদেহ শনিবার দেড়টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আনা হয়েছে। আমরা পরীক্ষা করে দেখি তার মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, দেবিদ্বার নিউ মার্কেট স্বাধীনতা চত্ত্বরে অবস্থা নেয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৫ শতাধিক নেতাকর্মী। স্বাধীনতা চত্ত্বর থেকে কিছুটা দূরে অবস্থান নেন বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীরা। এ সময় দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এর মধ্যে গুলিবিদ্ধ হন রুবেল।
এছাড়া দফায় দফায় ক্ষমতাসীন দলের অস্ত্রধারী নেতাকর্মীদের সাথে পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে ধাওয়া-পালটা ধাওয়া ও ইট পাটকেল ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া কয়েকটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
ভোলায় বৈষম্যবিরোধীদের সঙ্গে আ.লীগের ব্যাপক সংঘর্ষ, আগুন
ভোলায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত উভয় গ্রুপের অন্তত ২০/৩০ জন আহত হয়েছে।
এসময় বাংলা স্কুল মোড় এলাকায় জেলা আওয়ামী লীগ অফিস, শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের অফিস ভাঙচুর করে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। রোববার (৪ আগস্ট) দুপুরে এসব ঘটনা ঘটে।
এছাড়াও বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া।
এর আগে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একটি বিক্ষোভ মিছিল ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠসংলগ্ন ইলিশা বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক ঘুরে বাংলাস্কুল মোড় এলাকায় এলে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের সঙ্গে প্রথমে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও পবরর্তীতে সংঘর্ষ বাধে।
সংঘর্ষের পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেছে বলে জানা গেছে।
পিরোজপুরে ছাত্র-জনতার মিছিল বিক্ষোভ
কেন্দ্রঘোষিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীরা পিরোজপুরে কোন ধরনের বাধা ছাড়াই লাঠিসোটা নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। রবিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পিরোজপুর ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে পুরাতন বাস স্ট্যান্ডে গিয়ে জড়ো হয়। সেখানে সমাবেশ করার পর বিক্ষোভ মিছিলটি পুনরায় বাস স্ট্যান্ড থেকে সিও অফিস হয়ে শহরের দিকে প্রবেশ করে।
এতে সাধারণ শিক্ষার্থী ছাড়াও নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার তিন সহস্রাধিক মানুষ অংশ নেয়। এরপর মিছিলটি সরকারি মহিলা কলেজের সামনে থেকে যাওয়ার সময় ছাত্রলীগের কর্মীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে।
এ সময় তারা সেখানে টিকতে না পেরে সরে পড়লে, রাস্তার দুইপাশে রাখা প্রায় অর্ধশত মোটরসাইকেলে ভাঙচুর চালানো হয়। তবে আওয়ামী লীগ এবং এর অংশ সংগঠনের নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিলেও, বিক্ষোভকারীদের সাথে কোন সংঘর্ষ হয়নি। অন্যদিকে প্রতিটি মোড়ে মোড়ে পুলিশ মোতায়েন থাকলেও, বিক্ষোভকারীদের সাথে তাদের কোন সংঘর্ষ হয়নি। এদিকে দুপুরের দিকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জেলা বিএনপির কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে।
ইবি সংলগ্ন মহাসড়কে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী-জনতা, গুরুতর আহত ১
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মন্ত্রিপরিষদের পদত্যাগের দাবিতে দাবিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) সংলগ্ন কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়কে অবস্থান অবরোধ করে রেখেছেন শিক্ষর্থীসহ কয়েক হাজার স্থানীয় জনতা।
রোববার (৪ আগস্ট) বেলা ১২টার দিকে তারা সড়কের উপর অবস্থান নেন। দুপুর দুইটায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিপুল পরিমাণ এ জনতা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন।
এদিকে ১২ টার ক্যাম্পাস সংলগ্ন পূর্ব আবদালপুরে সহিদুল ইসলাম (৫০) নামে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। মাস্ক পরা অজ্ঞাত এক ব্যক্তির দ্বারা মাথায় লাঠির আঘাতে তিনি আহত হয়েছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। পরে আহত ব্যক্তিকে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যাম্পাসের চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যান আন্দোলনকারীরা।
পরে থাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেন দায়িত্বরত চিকিৎসকরা। দায়িত্বে থাকা চিকিৎসা জানান, মাথায় তিনটি সেলাই দেওয়া হয়েছে।
এর আগে বেলা সাড়ে ১১টায় ক্যাম্পাসের ডায়না চত্বর থেকে মিছিল নিয়ে ফটক পেরিয়ে মহাসড়কে আসেন সহস্রাধিক শিক্ষার্থী। তাদের সঙ্গে মিছিল নিয়ে যোগ দেয় ক্যাম্পাস পার্শ্ববর্তী শান্তিডাঙ্গা এলাকার কয়েক হাজার মানুষ।
পরে শিক্ষার্থী ও জনতার মিছিল ক্যাম্পাস সংলগ্ন শেখপাড়া বাজার প্রদক্ষিণ করে আবারো ফটকের দিকে এলে বিপরীত দিক থেকে হরিনারায়ণপুর এলাকা থেকে আসা সহস্রাধিক মানুষের আরেকটি মিছিল ফটকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগ হয়।
এছাড়া শেখপাড়া, মধুপুর, হরিনারায়ণপুরসহ বিভিন্ন এলাকার নানা শ্রেণি পেশার মানুষকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগ দিতে দেখা গেছে। এদিকে দুপুর দেড়টায় আন্দোলনকারীরা, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কক্ষ থেকে বের করে দেন।
এদিকে মহাসড়কে বিক্ষোভকারীরা সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে স্লোগান দিচ্ছেন। বিক্ষোভ চলাকালে বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীদের ইবি ফটকের ওপর মুজিব বর্ষ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর ছবি সংবলিত বিলবোর্ড, ৭ই মার্চের ভাষণ বাজানোর জন্য দেওয়া মাইক, পাশে থাকা চেয়ার ভাঙচুর করতে দেখা যায়। শিক্ষার্থীদের মিছিল চলাকালে ফটকের সামনে আগে থেকেই অবস্থান পুলিশ, আনসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা যায়।
এ সময় শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ পুলিশ-আনসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের দিকে এগিয়ে গেলেও অন্যরা মানবঢাল তৈরি করে পুলিশের ওপর হামলা করা প্রতিহত করেন। পরে স্থানীয়রা যোগ দিলে পুলিশকে নিরাপদ দূরত্বে চলে যেতে দেখা যায়। বর্তমানে পুলিশ ইবি থানায় অবস্থান করছেন।
আন্দোলনকারীদের দখলে সিরাজগঞ্জ শহর, গুলিতে নিহত ১
সিরাজগঞ্জ শহরের সবগুলো রুট দখলে নিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন সাধারণ জনতা এবং জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা।
এদিক সংঘর্ষের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
রবিবার সকাল থেকে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে আন্দোলনকারীরা। কয়েকঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় শহরের বাজার স্টেশন, এসএস রোড, মুজিব সড়ক, রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
সংঘর্ষে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে বলে জানা গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিচয় জানা যায়নি। এছাড়াও সাতজন গুলিবিদ্ধসহ ১৪ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সংঘর্ষের এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা পিছু হটলে পুরো শহর দখল করে নেয় আন্দোলনকারী ছাত্র ও বিএনপি নেতাকর্মীরা। এ সময় ড. জান্নাত আরা হেনরীর বাসা, জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়, সাবেক এমপি হাবিবে মিল্লাত মুন্নার বাসা, আওয়ামী নেতা বিমল কুমার দাসের বাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
এছাড়াও জেলা জজ আদালত, এসিল্যান্ড অফিস, মুক্তির সোপান স্মৃতিসৌধ, শিল্পকলা একাডেমিসহ শহরের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
এদিকে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে চয়ন ইসলাম এমপির বাসা ভাঙচুর করা হয়। বেলকুচি ও উল্লাপাড়া আওয়ামী লীগ অফিসে আগুন দেওয়া হয়।
সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের সুপারিন্টেনডেন্ট ডা. রতন কুমার জানান, রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত হাসপাতালে ১৪ জন ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে সাতজন গুলিবিদ্ধ।
বগুড়ায় আন্দোলনকারীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ, নিহত ২
বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় বৈষম্যবিরোধী কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। আজ রবিবার দুপুরে দুপচাঁচিয়া উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত একজনের নাম মুনিরুল ইসলাম (৩৪)। তার বাড়ি কাহালু উপজেলার বীরকেদার এলাকায়। মুনিরুল মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। অপরজনের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। এছাড়া সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ৯ জন ভর্তি রয়েছেন।
জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনাকারীরা অসহযোগ আন্দোলনের ডাকে বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের দুপচাঁচিয়া উপজেলার সামনে সকাল ১০টার দিকে অবস্থান নেন। সেখানে বিক্ষোভ মিছিল করতে থাকেন তারা। এসময় উত্তেজিত জনতা নেতাকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে হামলা করেন। পরে সেখানে থাকা একটি পুলিশ বক্স ভাঙচুর করা হয়। উপজেলা ভূমি অফিসসহ একাধিক সরকারি স্থাপনায় হামলা করা হয়। এ সময় পুলিশের সাথে আন্দোলনকারীদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে পুলিশ থানার মধ্যে অবস্থান নেয। তখন আন্দোলনকারীরা থানার গেট ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়। পরে থানার মধ্য থেকে পুলিশ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ সময় ১২ জন গুলিবিদ্ধ হন। আন্দোলনকারী ও পুলিশের সংঘর্ষের মধ্যে আহত হয়ে মুনিরুল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মারা যান।
বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোছা. শামসুন্নাহার জানান, মুনিরুলের মাথায় গুলি লেগেছিল।
বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আব্দুল ওয়াদুদ জানান, সংঘর্ষে আহত একজকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে (শজিমেক) নিয়ে আসা হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া এদিন দুপুরে বগুড়ার শেরপুর থানায় হামলা করে আন্দোলকারীরা। এসময় ১১ জন আহত হন।