দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের সংগ্রামী মা অধ্যাপিকা মাহমুদা বেগমের ইন্তেকালে শোক প্রকাশ করেছেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান।
রোববার এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, অধ্যাপিকা মাহমুদা বেগমের মৃত্যু গভীর শোকাবহ। তিনি ছিলেন একজন মহান শিক্ষক, ন্যায়নিষ্ঠ আদর্শ মা ও ধর্মপ্রাণ সম্ভ্রান্ত মুসলিম নারী। তিনি অসংখ্য শিক্ষার্থীর মাঝে জ্ঞানের আলো বিলিয়ে গেছেন।
খোমেনী ইহসান বলেন, মরহুমা অধ্যাপিক মাহমুদা বেগম বৃদ্ধ বয়সেও ন্যায় ও সত্যের পক্ষে থেকে প্রবল ক্ষমতাধর ফ্যাসিবাদী শক্তির জুলুমের প্রতিবাদ করার গৌরবময় ভূমিকা পালন করেছেন। তার একমাত্র ছেলে মাহমুদুর রহমানকে ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিবাদী শাসক শেখ হাসিনা আক্রোশবশতঃ হত্যাচেষ্টা, নিপীড়ন ও দীর্ঘ কারা নির্যাতনের মাধ্যমে স্তব্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। তখন অধ্যাপিকা মাহমুদা ছেলেকে শুধু সাহসই যোগাননি বরং বৃদ্ধ বয়সেও প্রবল স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। তিনি ভিন্নমতাবলম্বী সম্পাদকের মুক্তির দাবিতে সরব থাকার পাশাপাশি জবরদস্তি মূলক ভাবে বন্ধ করে দেওয়া দৈনিক আমার দেশকে বিপদের সময়ে পরিচালনা করা ও পুনঃপ্রকাশে সম্পৃক্ত ছিলেন।
শোক বার্তায় জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক বলেন, ‘আমি অধ্যাপিকা মাহমুুদা বেগমের রূহের মাগফিরাত কামনা করি ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।
উল্লেখ্য, আজ রোববার ভোর সোয়া পাঁচটায় রাজধানীর মগবাজার ইনসাফ বারাকাহ কিডনি হাসপাতালে অধ্যাপিকা মাহমুদা বেগম শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। তিনি বেশ কিছুদিন ধরে বার্ধক্যজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন। তিনি একমাত্র ছেলে মাহমুদুর রহমান, পুত্রবধু ফিরোজা মাহমুদ এবং ছোট বোন মনিরা মাহমুদাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও ছাত্র-ছাত্রী রেখে গেছেন।
অধ্যাপিকা মাহমুদা বেগম দৈনিক আমার দেশ পাবলিকেশন্সের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। কর্মজীবনে তিনি চট্টগ্রাম সরকারি কমার্স কলেজ, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ, তিতুমীর কলেজসহ বিভিন্ন কলেজের বাংলার শিক্ষক ছিলেন।
মরহুমার জানাযা রোববার বাদ জোহর গুলশান আজাদ মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর জুরাইন কবরস্থানে তাঁর বাবার কবরে তাঁকে দাফন করা হবে।
আপনার মন্তব্য লিখুন