‘জুলাই বিপ্লবের’ আকাঙ্ক্ষা পূরণে সাবেক শাসনব্যবস্থার বিলোপ এবং নতুন সংবিধান প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে বিপ্লবী ছাত্র পরিষদ। সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, গত বছরের জুলাইয়ে গণ-আন্দোলনে সাধারণ ছাত্র-জনতা আত্মত্যাগ করলেও পুরনো কাঠামো পরিবর্তন করে নতুন সংবিধান প্রণয়ন না করায় তারা বিপ্লবের ন্যায্য অংশ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
শুক্রবার ‘গণপ্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক শোভাযাত্রা শেষে বক্তারা এসব কথা বলেন। গত বছর ১৮ জুলাই সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আন্দোলনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণের স্মরণে সংগঠনটি এই দিবসটি পালন করে। এদিন রাজধানীর আলিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ থেকে একটি শোভাযাত্রা বের হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে অগ্রসর হয় এবং পরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
সমাবেশে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘যারা জুলাই বিপ্লবে অংশগ্রহণকারীদের তালিকা তৈরি করছে, তারা কারা? আপামর জনসাধারণের অংশগ্রহণে যে বিপ্লব সংগঠিত হয়েছে, তাতে আমরা কারা ছিলাম এবং কীভাবে ছিলাম, তা যারা জানে না, তারাই এই তালিকা করছে।’
তিনি আরও বলেন, সাবেক সরকারের পতন মূলত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে কৃষক, শ্রমিক, রিকশাচালক ও পথশিশুদের সম্মিলিত সংগ্রামের ফল। তাদের অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি দিয়ে বিপ্লবের ন্যায্য অংশ বুঝিয়ে দিতে হবে।
জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইয়েদ কুতুব বলেন, ‘বিপ্লব সফল হওয়ার পর বিপ্লবী সরকার গঠন না করে একটি বৈষম্যমূলক সরকার গঠন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, মাদ্রাসার ছাত্র, পথশিশু ও কৃষক-শ্রমিকদের বঞ্চিত করা হয়েছে। আমরা সবাইকে নিয়ে একটি বিপ্লবী সরকার গঠন করে এই বৈষম্য দূর করার দাবি জানাই।’
বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের আহ্বায়ক আবদুল ওয়াহেদ বলেন, ‘যারা আন্দোলনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে, পরিতাপের বিষয় হলো তাদের ত্যাগের মর্যাদা দেওয়া হয়নি। এত ত্যাগের পরেও তাদের রাষ্ট্রক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত করা হয়নি।’
সংগঠনটির সদস্য সচিব ফজলুর রহমান বলেন, ‘গত বছর ১৮ জুলাই ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে গণপ্রতিরোধের মূল ঢেউ সারা দেশে আছড়ে পড়েছিল। তাদের ঐক্যবদ্ধ রক্ত, ঘাম ও আত্মত্যাগের মাধ্যমেই ফ্যাসিবাদী শাসনের পতনের ঘণ্টাধ্বনি বেজে ওঠে।” তিনি আরও বলেন, “এই গণপ্রতিরোধে যারা জীবন বাজি রেখে অংশ নিয়েছিল, শহীদ ও আহত হয়েছিল, তাদের সবাইকে ‘গণপ্রতিরোধের বীর যোদ্ধা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একটি নৈতিক ও ঐতিহাসিক দায়িত্ব।’
শোভাযাত্রায় জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ ও বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আপনার মন্তব্য লিখুন