হামাসের সাথে নতুন বন্দী বিনিময় চুক্তির বিষয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে জানা গেছে, ৪০ ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেয়ার বিনিময়ে ৪০০ ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরায়েল।
এই আসন্ন চুক্তির আওতায় ছয় সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি হতে পারে। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র, মিশর ও কাতারের প্রতিনিধিদের সাথে সম্প্রতি হওয়া আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত এসেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে, ইসরাইল ৪০ জিম্মির বিনিময়ে ৪০০ ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দিতে রাজি হয়েছে।
এছাড়াও ইসরাইল ক্রমান্বয়ে বাস্তুচ্যুত গাজার বাসিন্দাদের উত্তর গাজায় ফিরতে দেয়ার বিষয়েও রাজি হয়েছে। তারা গাজার উপর দিয়ে যুদ্ধবিমান ওড়ানোও বন্ধ রাখতে রাজি আছে। দিনে আট ঘণ্টা বন্ধ থাকবে গোয়েন্দা নজরদারিও।
ইসরাইলের প্রতিনিধিরা দোহায় কাতারের আমিরের সাথে সাক্ষাৎ করতে যাওয়ার পরই এই খবর প্রকাশ্যে এলো। কাতারের আমির আলাদাভাবে হামাস নেতাদের সাথেও কথা বলেছেন।
সূত্র: প্রেস টিভি
হামাসকে কখনই ধ্বংস করা সম্ভব হবে না : কাতার
গাজার ওপর ইহুদিবাদী ইসরায়েল যে আগ্রাসন চালিয়েছে তার প্রতি সমর্থন দেয়ার জন্য পশ্চিমা দেশগুলোর সমালোচনা করেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মাদ আব্দুর রহমান বিন আলে সানি। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, পশ্চিমাদের এই ভূমিকার কারণে যুদ্ধ পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
তিনি বলেন, “পশ্চিমা প্রতিক্রিয়ায় এ অঞ্চলে বড় রকমের হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। আমরা আশা করেছিলাম, ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর হত্যাকাণ্ডের নিন্দা করবে পশ্চিমারা। আমরা আশা করেছিলাম, অন্য সংঘাতের ক্ষেত্রে পশ্চিমারা যে নীতি ও মানদণ্ড রক্ষা করে, এ ক্ষেত্রে তারা অন্তত তাই করবে। কিন্তু গাজা যুদ্ধকে অন্য যুদ্ধের মতো করে দেখা হয়নি।”
গতকাল ব্রিটিশ পত্রিকা ফাইনান্সিয়াল টাইমসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে কাতারের প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন- গাজায় এই ধ্বংস, হত্যাযজ্ঞ ও বাস্তুচ্যুতির পর এখন সবার দায়িত্ব হচ্ছে- চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ব্যবস্থা করা।
হামাসকে নিশ্চিহ্ন করার বিষয়ে ইহুদিবাদী ইসরায়েলের ঘোষণাকে কাতারের প্রধানমন্ত্রী বাস্তবসম্মত নয় বলে মন্তব্য করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এইসব ধ্বংসযজ্ঞের পর দিন শেষে হামাসকে নির্মূল করার ঘটনা কখনই ঘটবে না। সে কারণে চলমান সমস্যার রাজনৈতিক সমাধান করা ভালো বলে তিনি মত দেন।